ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা: তিন অগ্রাধিকার ও ১২ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফেরানো, জাতীয় শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) পর্যালোচনা এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।

শিক্ষকদের চলমান বিভিন্ন আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা পেশায় থেকে রাজপথে আন্দোলন করা কাম্য নয়। শিক্ষকদের সব যৌক্তিক দাবি সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর এবং সরকার তাঁদের কল্যাণেই কাজ করছে। তাই দাবি আদায়ের নামে রাস্তা দখল না করে শ্রেণিকক্ষে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রোধে কর্মকর্তাদের বদলি প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এখন থেকে কর্মকর্তাদের বদলি হবে মেধার ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা ‘অটোমেটিক অ্যাপস’-এর মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রকার মানবিক হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি। বিদ্যমান সিস্টেমে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের ১২ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল একটি খাত হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রধান বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ তৈরির মূল কারখানা হিসেবে বিবেচনা করছে। ‘শিক্ষায় রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়া’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনায় বেশ কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগের কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন ও ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ নীতি প্রবর্তন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং মাধ্যমিক পর্যায় থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রকৃত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রূপান্তর এবং সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

এই মহাপরিকল্পনাগুলো তিন ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘বেপরোয়া’, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ: ব্রিটিশ এমপি

শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা: তিন অগ্রাধিকার ও ১২ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফেরানো, জাতীয় শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) পর্যালোচনা এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।

শিক্ষকদের চলমান বিভিন্ন আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা পেশায় থেকে রাজপথে আন্দোলন করা কাম্য নয়। শিক্ষকদের সব যৌক্তিক দাবি সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর এবং সরকার তাঁদের কল্যাণেই কাজ করছে। তাই দাবি আদায়ের নামে রাস্তা দখল না করে শ্রেণিকক্ষে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রোধে কর্মকর্তাদের বদলি প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এখন থেকে কর্মকর্তাদের বদলি হবে মেধার ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা ‘অটোমেটিক অ্যাপস’-এর মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রকার মানবিক হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি। বিদ্যমান সিস্টেমে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের ১২ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল একটি খাত হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রধান বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ তৈরির মূল কারখানা হিসেবে বিবেচনা করছে। ‘শিক্ষায় রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়া’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনায় বেশ কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগের কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন ও ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ নীতি প্রবর্তন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং মাধ্যমিক পর্যায় থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রকৃত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রূপান্তর এবং সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

এই মহাপরিকল্পনাগুলো তিন ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।