ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘোষণা দিয়েছেন যে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল ও এর সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে নাকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাল পুনঃখনন এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অবৈধ বাজার, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণেই মূলত যানজট বাড়ছে। স্ট্রিট পার্কিংয়ের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে এসব ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, নিয়মিত টোল আদায় হচ্ছে এবং সেতুর কিস্তিও যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বকেয়া নেই। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অতীতের সফল মডেল অনুসরণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ যুক্ত করার বিষয়ে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মেট্রোরেলের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বিআরটি প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি রাষ্ট্রবান্ধব হয়নি—এমন একটি প্রাথমিক ধারণা রয়েছে। তবে বিপুল অর্থব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত জটিলতা বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম জোর দিয়ে বলেন, যেখানে জনস্বার্থ জড়িত, সেখানে দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ নগণ্য। কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘বেপরোয়া’, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ: ব্রিটিশ এমপি

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘোষণা দিয়েছেন যে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল ও এর সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে নাকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাল পুনঃখনন এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অবৈধ বাজার, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণেই মূলত যানজট বাড়ছে। স্ট্রিট পার্কিংয়ের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে এসব ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, নিয়মিত টোল আদায় হচ্ছে এবং সেতুর কিস্তিও যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বকেয়া নেই। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অতীতের সফল মডেল অনুসরণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ যুক্ত করার বিষয়ে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মেট্রোরেলের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বিআরটি প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি রাষ্ট্রবান্ধব হয়নি—এমন একটি প্রাথমিক ধারণা রয়েছে। তবে বিপুল অর্থব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত জটিলতা বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম জোর দিয়ে বলেন, যেখানে জনস্বার্থ জড়িত, সেখানে দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ নগণ্য। কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।