সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষায় কারো মাদক গ্রহণের প্রমাণ বা ‘পজিটিভ’ ফলাফল এলে তিনি সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা-২০২৬’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই বিধিমালার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আসে।
বিধিমালার মূল দিকসমূহ:
- নিয়োগ ও চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে: কেবল নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরাই নন, বর্তমানে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠলে এবং পরীক্ষায় তা পজিটিভ হলে তা ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮’ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে।
- লাইসেন্স ও উচ্চশিক্ষা: গাড়ি বা যেকোনো স্থলযান, নৌযান এবং আকাশযানের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মী এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের সন্দেহ থাকলে তাদের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা প্রযোজ্য হবে।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: বিধিমালার আওতা কেবল সরকারি দপ্তরে সীমাবদ্ধ নয়; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই ডোপ টেস্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
টেকনিক্যাল কমিটি গঠন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সভাপতি করে একটি শক্তিশালী ৯ সদস্যের ‘ডোপ টেস্ট টেকনিক্যাল কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটিতে সিআইডির ফরেনসিক ডিআইজি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং প্রাণরসায়ন বিশেষজ্ঞসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা থাকবেন। এই কমিটি পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করবে।
স্বচ্ছতা ও কঠোর গোপনীয়তা: পরীক্ষায় কোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি ও আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হবে। নমুনার গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যক্তির নাম-ঠিকানার বদলে একটি নির্দিষ্ট ‘কোড’ ব্যবহার করা হবে। ল্যাবরেটরিতে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং তথ্যের বিকল্প ব্যাকআপ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা এই বিধিমালা পালনে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে কিছু বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্নভাবে ডোপ টেস্ট শুরু করলেও এই নতুন বিধিমালার মাধ্যমে মাদকাসক্তি বিরোধী লড়াই একটি সুসংগঠিত ও বাধ্যতামূলক আইনি রূপ পেল।
রিপোর্টারের নাম 
























