ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশ ও নেপালের গুরুত্বারোপ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং দুই দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ (জ্বালানি), আঞ্চলিক সংযোগ (কানেক্টিভিটি) এবং পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকা সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার সঙ্গে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বর্তমানে ঢাকা সফর করছেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়: বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা প্রতিটি দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি আলোচনার টেবিলে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নেব।”

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা স্মরণ করা হয়। দুই মন্ত্রী বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ এবং সরাসরি কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ঐক্যমতে পৌঁছান। বিশেষ করে নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং সেই বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন। নেপালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের বৈদেশিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার সংকেত দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দ্রুত অর্থনৈতিক সংলাপ শুরু করা একটি ইতিবাচক এবং শক্তিশালী বৈদেশিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশ ও নেপালের গুরুত্বারোপ

আপডেট সময় : ০২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং দুই দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ (জ্বালানি), আঞ্চলিক সংযোগ (কানেক্টিভিটি) এবং পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকা সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার সঙ্গে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বর্তমানে ঢাকা সফর করছেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়: বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা প্রতিটি দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি আলোচনার টেবিলে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নেব।”

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা স্মরণ করা হয়। দুই মন্ত্রী বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ এবং সরাসরি কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ঐক্যমতে পৌঁছান। বিশেষ করে নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং সেই বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন। নেপালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের বৈদেশিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার সংকেত দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দ্রুত অর্থনৈতিক সংলাপ শুরু করা একটি ইতিবাচক এবং শক্তিশালী বৈদেশিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।