ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগমুহূর্তে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরান যদি একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
সোমবার ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তার এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব। তবে ইরান নিশ্চয়ই চুক্তি না করার মতো ঝুঁকি বা এর পরিণাম ভোগ করতে চাইবে না।”
মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন এবং পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তার নিয়ে ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। বিশেষ করে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘকাল ধরেই উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ওয়াশিংটন কেবল পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়গুলোও আলোচনার মূল এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি ‘বাস্তবসম্মত’।
উল্লেখ্য, এর আগেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েলের আকস্মিক ইরান হামলার কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ওই হামলা পরবর্তীতে ১২ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নেয়, যেখানে মার্কিন বাহিনীও সরাসরি যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে কূটনৈতিক টেবিলে বসছে দুই পক্ষ। তেহরান শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের শর্ত মেনে চুক্তিতে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 






















