সামরিক ও বেসামরিক প্রয়োজনে দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা প্রদর্শনে প্রথমবারের মতো কার্গো উড়োজাহাজে করে একটি ক্ষুদ্র পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর (মাইক্রোরিঅ্যাক্টর) পরিবহন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইউটা অঙ্গরাজ্যে সি-১৭ বিমানে করে এটি স্থানান্তর করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভ্যালার অ্যাটমিকস-এর তৈরি ‘ওয়ার্ড’ নামের এই রিঅ্যাক্টরটি কোনও জ্বালানি ছাড়াই ইউটার বিমানঘাঁটি হিল এয়ার ফোর্স বেসে নেওয়া হয়।
এই ঐতিহাসিক ফ্লাইটে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং প্রতিরক্ষা আন্ডার সেক্রেটারি মাইকেল ডাফি। একে মার্কিন পারমাণবিক শক্তি এবং সামরিক লজিস্টিকসের ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা। মাইকেল ডাফি বলেন, এটি আমাদের যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ মোতায়েনের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেলো, যা যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের সেনাদের জয়ের সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ক্ষুদ্র রিঅ্যাক্টরগুলোকে জ্বালানি উৎপাদনের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে। গত মে মাসে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা ও এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তি প্রসারে চারটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
ভ্যালার অ্যাটমিকস-এর প্রধান নির্বাহী ইশাইয়াহ টেলর জানান, একটি মিনিভ্যানের চেয়ে কিছুটা বড় এই রিঅ্যাক্টরটি ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, যা ৫ হাজার বাড়ির চাহিদা মেটাতে পারে। চলতি বছরের জুলাইয়ে এটি প্রথমে ১০০ কিলোওয়াট এবং পরে ২৫০ কিলোওয়াট শক্তিতে সচল হবে। ২০২৭ সালে পরীক্ষামূলক বিক্রি এবং ২০২৮ সালে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে তিনটি মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস-এর পারমাণবিক শক্তি নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক এডউইন লাইম্যান বলেন, মাইক্রোরিঅ্যাক্টরের কোনও ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা নেই। এগুলো বড় রিঅ্যাক্টর, এমনকি বায়ু বা সৌরশক্তির চেয়েও অনেক বেশি ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
এ ছাড়া পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বর্জ্য নিষ্পত্তির বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত, তবে জ্বালানি সচিব জানিয়েছেন, ইউটাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বা স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
রিপোর্টারের নাম 






















