গাজায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি পণ্য বর্জন নিয়ে ইউরোপজুড়ে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের এক সুপারমার্কেট কর্মী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখে ইসরায়েলি ফল ও সবজি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও জনমতের চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটি তাকে পুনর্বহাল করে এবং এমন দায়িত্বে স্থানান্তর করে যেখানে তাকে ইসরায়েলি পণ্য সামলাতে হয় না। এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিবাদ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সে প্রশ্ন সামনে এনেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে প্রস্তাব পাস করেছে। যুক্তরাজ্য ও ইতালির কিছু খুচরা বিক্রেতা গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ইসরায়েলি পণ্য সরিয়ে নিয়েছে। এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে বয়কট এবং বিডিএস, যা ২০০৫ সালে শুরু হওয়া একটি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন প্রচারাভিযান। আন্তর্জাতিক আইন মেনে না চলা পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়কটের আহ্বান জানায় তারা।
পারিপার্শ্বিক চাপের মুখে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ নীতিগত পদক্ষেপও নিয়েছে। স্লোভেনিয়া ২০২৫ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। একই পথে হেঁটে স্পেন ২০২৬ সালের শুরুতে অবৈধ ইসরায়েলি কলোনি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধে ডিক্রি কার্যকর করে। নেদারল্যান্ডস-এ শিক্ষার্থীদের ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড ইসরায়েলের অধিকৃত অঞ্চল থেকে বাণিজ্য নিষিদ্ধের একটি বিল এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছে, যদিও তা এখনো আটকে আছে।
এই উদ্যোগগুলোর বিরোধিতাও হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন বনাই ব্রিথ ইন্টারন্যাশনাল আইরিশ আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের আইন মার্কিন কোম্পানির জন্য আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। ফাঁস হওয়া নথিতে ইসরায়েলি সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বয়কটবিরোধী কার্যক্রমে আইনজীবী নিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।
ইউরোপের কিছু দেশে বিডিএস আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধও রয়েছে। ২০১৯ সালে বুন্ডেসটাগ একটি প্রস্তাবে বিডিএসকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দেয়। যুক্তরাজ্যে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়কট নীতি নেওয়া থেকে বিরত রাখতে একটি বিল আনা হয়েছিল, যদিও তা শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন নিয়ে ইউরোপে এই দ্বন্দ্ব কেবল বাণিজ্য নয়, বরং পররাষ্ট্রনীতি, মানবাধিকার ও নাগরিক প্রতিবাদের প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে আনছে।
রিপোর্টারের নাম 






















