প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সেন্টমার্টিন দ্বীপে একশ্রেণীর অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কেয়া গাছ কেটে উপকূলীয় বনাঞ্চল দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কারা এই পরিবেশবিধ্বংসী কাজে জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু কেয়া গাছ কেটে ফেলার দৃশ্য স্থানীয়দের নজরে আসে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দ্বীপজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, তিনি কেয়া গাছ নিধনের বিষয়টি শুনেছেন। তবে কারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচ কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, পরিবেশ সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম এরশাদ এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কেয়া গাছ কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, বরং এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে বালুচর ও বসতভিটা রক্ষায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে কেয়া গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যেই সারি সারি কেয়া গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। তারা এটিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন এবং প্রশাসন ও পরিবেশ কর্মীদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের মতে, এই কেয়া গাছগুলো দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশের এক অমূল্য রক্ষাকবচ।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, তারা সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় কেয়া গাছ কাটার বিষয়টি অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রাথমিক তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























