ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

দশমিনায় ১৮ মাস পর খোলা আ. লীগ কার্যালয়ে ৪ ঘণ্টার মাথায় ভাঙচুর ও তালা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর দশমিনায় দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী কার্যালয় পুনরায় চালুর মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার মাথায় আবারও ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলখোলা বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অনেক আগে থেকেই নলখোলা বন্দরের এই কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হাওলাদার এবং দশমিনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ প্যাদার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কার্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর অফিসটি সচল হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়।

তবে এই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। কার্যালয়টি চালুর ঠিক সাড়ে চার ঘণ্টা পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সেখানে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পুনরায় মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে নলখোলা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন প্যাদা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে ছিলাম। যারা আজ আমাদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা মূলত স্থানীয় দুষ্কৃতকারী এবং স্বতন্ত্র প্রতিপক্ষ হাসান মামুনের অনুসারী। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির এক নেতা এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন পর একটি রাজনৈতিক কার্যালয় খোলার পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে কেন এমন বিশৃঙ্খলা ঘটল। নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, ইরানের পাল্টা জবাবের ইঙ্গিত

দশমিনায় ১৮ মাস পর খোলা আ. লীগ কার্যালয়ে ৪ ঘণ্টার মাথায় ভাঙচুর ও তালা

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনায় দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী কার্যালয় পুনরায় চালুর মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার মাথায় আবারও ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলখোলা বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অনেক আগে থেকেই নলখোলা বন্দরের এই কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হাওলাদার এবং দশমিনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ প্যাদার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কার্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর অফিসটি সচল হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়।

তবে এই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। কার্যালয়টি চালুর ঠিক সাড়ে চার ঘণ্টা পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সেখানে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পুনরায় মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে নলখোলা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন প্যাদা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে ছিলাম। যারা আজ আমাদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা মূলত স্থানীয় দুষ্কৃতকারী এবং স্বতন্ত্র প্রতিপক্ষ হাসান মামুনের অনুসারী। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির এক নেতা এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন পর একটি রাজনৈতিক কার্যালয় খোলার পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে কেন এমন বিশৃঙ্খলা ঘটল। নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।