ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, সরকারি কর্মচারীদের নতুন দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নবম পে-স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির প্রথম সভা গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দেওয়া প্রতিবেদনগুলোর বেতন-সম্পর্কিত বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ)। এই কমিটি প্রতিবেদনগুলোর বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই লক্ষ্যেই কমিটির সদস্যরা তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাও রয়েছে।

এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীরা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তারা নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি বাস্তবায়নের আবেদন জানাবেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষৎ করব। তিনি আমাদের দাবি বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, সরকারি কর্মচারীদের নতুন দাবি

আপডেট সময় : ০৪:১০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবম পে-স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির প্রথম সভা গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দেওয়া প্রতিবেদনগুলোর বেতন-সম্পর্কিত বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ)। এই কমিটি প্রতিবেদনগুলোর বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই লক্ষ্যেই কমিটির সদস্যরা তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাও রয়েছে।

এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীরা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তারা নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি বাস্তবায়নের আবেদন জানাবেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষৎ করব। তিনি আমাদের দাবি বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’