রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, রুশ হামলায় ইউক্রেনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও অক্ষত নেই। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রুশ আক্রমণের চতুর্থ বার্ষিকী সামনে রেখে দেওয়া এই ভাষণে জেলেনস্কি জানান, মস্কোর ক্রমাগত হামলায় দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনে এমন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও অবশিষ্ট নেই যা রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একটিও না।’ তবে অবকাঠামো মেরামতে নিয়োজিত কর্মীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এত কিছুর পরও ইউক্রেন বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘তিনি (পুতিন) নিজেকে জার (সম্রাট) মনে করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি যুদ্ধের দাস।’
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বর্তমানে চলমান আঞ্চলিক ছাড়ের আলোচনার সঙ্গে ১৯৩৮ সালের ‘মিউনিখ চুক্তির’ তুলনা করেছেন জেলেনস্কি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর এক বছর আগে তৎকালীন ইউরোপীয় শক্তিগুলো হিটলারকে চেকোস্লোভাকিয়ার একটি অংশ ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছিল।
জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, ‘ইউক্রেনকে বিভক্ত করে এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাবে, এটি একটি বিভ্রম। ঠিক যেমন বিভ্রম ছিল যে চেকোস্লোভাকিয়াকে বিসর্জন দিলে ইউরোপ বড় যুদ্ধ থেকে রক্ষা পাবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, কার্যকরী নিরাপত্তা গ্যারান্টিই কেবল ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করতে পারে।
আগামী সপ্তাহে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রায়ই ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আনে এবং সেই ছাড়ের আলোচনা শুধু ইউক্রেনের কাছেই করা হয়।’
ইউক্রেন নিজের পূর্বাঞ্চলীয় কোনও এলাকা ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জেলেনস্কি মনে করেন, আলোচনার টেবিলে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ থাকলে যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ বেশি থাকত, কিন্তু রাশিয়া এর বিরোধিতা করছে।
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে অস্ত্রের বিবর্তন দ্রুত ঘটছে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া এখন ইরানের নকশা করা আরও বেশি প্রাণঘাতী ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করছে। তিনি মিত্রদের দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি পাওয়া গেলে এবং যুদ্ধবিরতি সম্মত হওয়ার পরই ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মিউনিখ সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























