ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামানত হারালেন ইসলামী আন্দোলনের সব প্রার্থী, প্রশ্ন দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের মধ্যে ২০টিতে প্রার্থী দিয়েছিল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ২০টি আসনেই দলটির প্রার্থীরা তাদের জামানত খুইয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই ফলাফলে রাজনৈতিক মহলে দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। এমনকি কয়েকটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্র চেয়ে ইসলামী ফ্রন্ট ও খেলাফতে মজলিসের প্রার্থীরা তুলনামূলক ভালো ভোট পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থীই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট সংগ্রহ করতে পারেননি।

উত্তর চট্টগ্রামে দলটির প্রার্থীরা হতাশাজনক ফলাফল করেছেন। যেমন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে মহানগর আমির মো. জান্নাতুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৮৮০ ভোট পেয়েছেন, যেখানে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪২ জন। একইভাবে, চট্টগ্রাম-১ আসনে ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী ২ হাজার ১০৮ ভোট এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে জুলফিকার আলী মান্নান ২ হাজার ১৬৯ ভোট পান। চট্টগ্রাম-৩ আসনে আমজাদ হোসেন ৫ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছিলেন, যা ওই অঞ্চলে দলের জন্য সর্বোচ্চ। তবে এই আসনটিতেও তিনি জামানত রক্ষা করতে পারেননি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে মো. দিদারুল মাওলা ১ হাজার ৩৩৭ ভোট পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ আসনেও দলীয় প্রার্থী মতি উল্লাহ নূরী ১ হাজার ৩১৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান, যেখানে ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী ১২ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকি আসনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোহাম্মদ নুরুল আলম ১ হাজার ২০৮ ভোট, চট্টগ্রাম-৯ আসনে আব্দুস শুক্কুর ৯৪১ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে নুর উদ্দিন ২ হাজার ৫৫৭ ভোট পেয়েছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোতেও পরিস্থিতির খুব একটা ভিন্নতা ছিল না। চট্টগ্রাম-১২ আসনে এমএম বেলাল নুর ৯০১ ভোট, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ১ হাজার ৫৩৯ ভোট, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শরীফুল আলম চৌধুরী ২ হাজার ৯০৯ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে হাফেজ রুহুল্লাহ ৪ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছেন।

কক্সবাজারের চারটি আসনেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে সারওয়ার আলী কুতুবী ৪ হাজার ৫২৮ ভোট, কক্সবাজার-২ আসনে জিয়াউল হক ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট (জেলায় দলের সর্বোচ্চ), কক্সবাজার-৩ আসনে আমিরুল ইসলাম ৫ হাজার ১৪৯ ভোট এবং কক্সবাজার-৪ আসনে নুরুল হক ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট পান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আশানুরূপ ফল পাননি। বান্দরবান আসনে মো. আবুল কালাম আজাদ ৪ হাজার ৭১৮ ভোট, রাঙামাটিতে জসিম উদ্দিন ৩ হাজার ৬৭২ ভোট এবং খাগড়াছড়িতে কাউসার ৩ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের এমন অপ্রত্যাশিত ফল দলের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং জনসম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমির মো. জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “মানুষ ক্ষমতালোভী। শরিয়া বোঝে না। সেজন্য আমাদের প্রার্থীরা কম ভোট পেয়েছেন। তবে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। আশা করি, সব কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধানল: সর্বোচ্চ নেতাকে হারিয়েও ইরানের অপ্রতিরোধ্য পাল্টা হামলা

চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামানত হারালেন ইসলামী আন্দোলনের সব প্রার্থী, প্রশ্ন দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে

আপডেট সময় : ০৭:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের মধ্যে ২০টিতে প্রার্থী দিয়েছিল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ২০টি আসনেই দলটির প্রার্থীরা তাদের জামানত খুইয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই ফলাফলে রাজনৈতিক মহলে দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। এমনকি কয়েকটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্র চেয়ে ইসলামী ফ্রন্ট ও খেলাফতে মজলিসের প্রার্থীরা তুলনামূলক ভালো ভোট পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থীই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট সংগ্রহ করতে পারেননি।

উত্তর চট্টগ্রামে দলটির প্রার্থীরা হতাশাজনক ফলাফল করেছেন। যেমন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে মহানগর আমির মো. জান্নাতুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৮৮০ ভোট পেয়েছেন, যেখানে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪২ জন। একইভাবে, চট্টগ্রাম-১ আসনে ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী ২ হাজার ১০৮ ভোট এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে জুলফিকার আলী মান্নান ২ হাজার ১৬৯ ভোট পান। চট্টগ্রাম-৩ আসনে আমজাদ হোসেন ৫ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছিলেন, যা ওই অঞ্চলে দলের জন্য সর্বোচ্চ। তবে এই আসনটিতেও তিনি জামানত রক্ষা করতে পারেননি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে মো. দিদারুল মাওলা ১ হাজার ৩৩৭ ভোট পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ আসনেও দলীয় প্রার্থী মতি উল্লাহ নূরী ১ হাজার ৩১৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান, যেখানে ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী ১২ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকি আসনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোহাম্মদ নুরুল আলম ১ হাজার ২০৮ ভোট, চট্টগ্রাম-৯ আসনে আব্দুস শুক্কুর ৯৪১ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে নুর উদ্দিন ২ হাজার ৫৫৭ ভোট পেয়েছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোতেও পরিস্থিতির খুব একটা ভিন্নতা ছিল না। চট্টগ্রাম-১২ আসনে এমএম বেলাল নুর ৯০১ ভোট, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ১ হাজার ৫৩৯ ভোট, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শরীফুল আলম চৌধুরী ২ হাজার ৯০৯ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে হাফেজ রুহুল্লাহ ৪ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছেন।

কক্সবাজারের চারটি আসনেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে সারওয়ার আলী কুতুবী ৪ হাজার ৫২৮ ভোট, কক্সবাজার-২ আসনে জিয়াউল হক ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট (জেলায় দলের সর্বোচ্চ), কক্সবাজার-৩ আসনে আমিরুল ইসলাম ৫ হাজার ১৪৯ ভোট এবং কক্সবাজার-৪ আসনে নুরুল হক ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট পান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আশানুরূপ ফল পাননি। বান্দরবান আসনে মো. আবুল কালাম আজাদ ৪ হাজার ৭১৮ ভোট, রাঙামাটিতে জসিম উদ্দিন ৩ হাজার ৬৭২ ভোট এবং খাগড়াছড়িতে কাউসার ৩ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের এমন অপ্রত্যাশিত ফল দলের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং জনসম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমির মো. জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “মানুষ ক্ষমতালোভী। শরিয়া বোঝে না। সেজন্য আমাদের প্রার্থীরা কম ভোট পেয়েছেন। তবে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। আশা করি, সব কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।”