ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: ত্রয়োদশ সংসদে বাবার আসনে যেসব সন্তান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার সংসদে প্রবেশ করেছেন বেশ কয়েকজন দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতা, যারা নিজেদের বাবার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্রদের মনোনয়ন নিয়ে এই তরুণ নেতারা নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়ে বাবার পথ ধরে সংসদে পা রাখছেন। এই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এমন কয়েকজন রাজনৈতিক সন্তানের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:

ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১)
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নওশাদ জমির বর্তমানে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নওশাদ জমির মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩)
যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। তার বাবাও এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও ধারা অনুসরণ করে এবার অমিত নিজেই সংসদে স্থান করে নিলেন।

ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬)
ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার একাধিক আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২)
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশের রিকশা প্রতীকের মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। শামা ওবায়েদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবার সংসদে প্রবেশ করলেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন (চট্টগ্রাম-৫)
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখলেন। তার পিতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনও এই অঞ্চলের একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ।

সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০)
চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনের জয়ী প্রার্থী সাঈদ আল নোমান প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই চমক দেখিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। তরুণ এই রাজনীতিবিদ স্বল্প সময়ে রাজনীতির ময়দানে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। সাঈদের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর সাঈদ এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭)
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রভাব সবসময়ই ছিল। তিনি প্রায় ৩০ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালতের রায়ে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। সালাহউদ্দিন জীবদ্দশায় এই আসন এবং ফটিকছড়ি থেকেও নির্বাচন করেছেন।

নায়াব ইউসুফ (ফরিদপুর-৩)
ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও একাধিকবারের মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফও এই আসন থেকে কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নায়াব তার বাবার রাজনৈতিক পথ ধরে সংসদে পা রাখলেন।

মঞ্জুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২)
গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের একমাত্র ছেলে। রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের আলী নাছের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (পাবনা-১)
পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ব্যাপক ব্যবধানে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৩ ভোট।

মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১)
পিরোজপুর-১ আসনে (সদর, ইন্দুরকানী, নাজিরপুর) প্রয়াত জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮২৮ টি ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৫ টি ভোট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগে বন্ধ উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: ত্রয়োদশ সংসদে বাবার আসনে যেসব সন্তান

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার সংসদে প্রবেশ করেছেন বেশ কয়েকজন দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতা, যারা নিজেদের বাবার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্রদের মনোনয়ন নিয়ে এই তরুণ নেতারা নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়ে বাবার পথ ধরে সংসদে পা রাখছেন। এই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এমন কয়েকজন রাজনৈতিক সন্তানের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:

ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১)
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নওশাদ জমির বর্তমানে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নওশাদ জমির মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩)
যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। তার বাবাও এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও ধারা অনুসরণ করে এবার অমিত নিজেই সংসদে স্থান করে নিলেন।

ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬)
ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার একাধিক আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২)
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশের রিকশা প্রতীকের মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। শামা ওবায়েদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবার সংসদে প্রবেশ করলেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন (চট্টগ্রাম-৫)
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখলেন। তার পিতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনও এই অঞ্চলের একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ।

সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০)
চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনের জয়ী প্রার্থী সাঈদ আল নোমান প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই চমক দেখিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। তরুণ এই রাজনীতিবিদ স্বল্প সময়ে রাজনীতির ময়দানে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। সাঈদের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর সাঈদ এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭)
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রভাব সবসময়ই ছিল। তিনি প্রায় ৩০ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালতের রায়ে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। সালাহউদ্দিন জীবদ্দশায় এই আসন এবং ফটিকছড়ি থেকেও নির্বাচন করেছেন।

নায়াব ইউসুফ (ফরিদপুর-৩)
ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও একাধিকবারের মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফও এই আসন থেকে কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নায়াব তার বাবার রাজনৈতিক পথ ধরে সংসদে পা রাখলেন।

মঞ্জুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২)
গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের একমাত্র ছেলে। রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের আলী নাছের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (পাবনা-১)
পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ব্যাপক ব্যবধানে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৩ ভোট।

মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১)
পিরোজপুর-১ আসনে (সদর, ইন্দুরকানী, নাজিরপুর) প্রয়াত জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮২৮ টি ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৫ টি ভোট।