ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরোয়ানা গায়েব: বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নাকি ঘুষের লেনদেন?

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির দণ্ড পরোয়ানা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। প্রায় এক বছর আগে আদালত থেকেissued হওয়া এই পরোয়ানাটি এখনো সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছায়নি, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষের বিনিময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি আটকে রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম সুমন রেজা, যার বিরুদ্ধে মাদক ও জাল রুপির কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ১৮টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে দুটি মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, যাবজ্জীবন সাজার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

জানা গেছে, ২০২২ সালে সুমন রেজাকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক আসামি সুমন আলীর সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সাজা পরোয়ানাটি রাজশাহী আদালত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান গত বছরের ৮ এপ্রিল দুজনের সাজা পরোয়ানা আরএমপি’র আদালত পরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, এটি আরএমপি’র প্রসিকিউশন শাখার উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং সবশেষে শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছানোর কথা। কিন্তু আরএমপি’র আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিকের কার্যালয়েই সুমন রেজার সাজা পরোয়ানাটি আটকে যায়। সূত্রমতে, অর্থের বিনিময়ে এটি আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদালত পরিদর্শক রফিক জানান, প্রতিদিন প্রচুর ওয়ারেন্ট আসে এবং কপি না দেখলে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, তারা আরএমপি থেকে গত বছরের ৫ জুন শুধু সুমন আলীর সাজা পরোয়ানা পেয়েছেন। সুমন রেজার পরোয়ানাটিও একই সময়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা পৌঁছেনি। এই ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরোয়ানা গায়েব: বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নাকি ঘুষের লেনদেন?

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির দণ্ড পরোয়ানা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। প্রায় এক বছর আগে আদালত থেকেissued হওয়া এই পরোয়ানাটি এখনো সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছায়নি, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষের বিনিময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি আটকে রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম সুমন রেজা, যার বিরুদ্ধে মাদক ও জাল রুপির কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ১৮টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে দুটি মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, যাবজ্জীবন সাজার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

জানা গেছে, ২০২২ সালে সুমন রেজাকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক আসামি সুমন আলীর সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সাজা পরোয়ানাটি রাজশাহী আদালত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান গত বছরের ৮ এপ্রিল দুজনের সাজা পরোয়ানা আরএমপি’র আদালত পরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, এটি আরএমপি’র প্রসিকিউশন শাখার উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং সবশেষে শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছানোর কথা। কিন্তু আরএমপি’র আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিকের কার্যালয়েই সুমন রেজার সাজা পরোয়ানাটি আটকে যায়। সূত্রমতে, অর্থের বিনিময়ে এটি আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদালত পরিদর্শক রফিক জানান, প্রতিদিন প্রচুর ওয়ারেন্ট আসে এবং কপি না দেখলে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, তারা আরএমপি থেকে গত বছরের ৫ জুন শুধু সুমন আলীর সাজা পরোয়ানা পেয়েছেন। সুমন রেজার পরোয়ানাটিও একই সময়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা পৌঁছেনি। এই ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।