ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর, আহত ৩৫

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর থেকে গত দুই দিনে (বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত) জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ এবং শরণখোলা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিটি ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উত্থাপন করছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াত কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার ও মশিউর রহমানসহ অন্তত পাঁচ-ছয়জনের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এই হামলা চালায়।

এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়ি এবং ৭-৮ জন বিএনপি কর্মীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।

খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমরান ও তারেক নামের দু’জনকে আটক করেছে।

বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পরাজিত ও বিজিত প্রার্থীর সমর্থকরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করা হচ্ছে, বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে এবং হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি এবং এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানিয়েছেন, তারাও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে, সবাই ফলাফল মেনে নিয়েছে। এখন সংঘাতের কোনো কারণ নেই। যদি আমাদের দলের কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি ঘটনায় আমি প্রশাসনকেও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে। যেকোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চরভদ্রাসনে দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীর দাবি অভিমান থেকে আত্মহত্যা

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর, আহত ৩৫

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর থেকে গত দুই দিনে (বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত) জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ এবং শরণখোলা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিটি ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উত্থাপন করছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াত কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার ও মশিউর রহমানসহ অন্তত পাঁচ-ছয়জনের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এই হামলা চালায়।

এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়ি এবং ৭-৮ জন বিএনপি কর্মীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।

খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমরান ও তারেক নামের দু’জনকে আটক করেছে।

বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পরাজিত ও বিজিত প্রার্থীর সমর্থকরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করা হচ্ছে, বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে এবং হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি এবং এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানিয়েছেন, তারাও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে, সবাই ফলাফল মেনে নিয়েছে। এখন সংঘাতের কোনো কারণ নেই। যদি আমাদের দলের কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি ঘটনায় আমি প্রশাসনকেও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে। যেকোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”