গতকাল অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ উন্মোচিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে ভোটাররা সংবিধান ও ক্ষমতার ভারসাম্যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ভোটারের ৬০.২৬ শতাংশ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ শিবির।
বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ প্রতীকে তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এই বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’-এর জয় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।
এই গণভোটের ফলাফলের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে দেশের শাসনব্যবস্থায়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হবে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। একই সাথে, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, যা রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, দেশের সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হবে এবং সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে। এর ফলে কোনো একক দলের ইচ্ছায় সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা কঠিন হবে, যা সংবিধানের স্থায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করবে।
গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়, যাদের সুপারিশে ৪৮টি সংবিধানসংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সংবিধান সংস্কারের এই প্রক্রিয়া তিন স্তরে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে এর আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে গতকালের গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হলো। তৃতীয় ও শেষ ধাপে, আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফলের আলোকে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে।
সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন এবং একই সাথে দলীয় প্রধানের পদও অলঙ্কৃত করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি তাঁর নিজস্ব এখতিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ কমিশনগুলোতে নিয়োগ দিতে পারবেন। এছাড়া, সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং উচ্চকক্ষকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে গঠনের প্রস্তাবও এই সংস্কার প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত।
রিপোর্টারের নাম 




















