ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা এবং ৫৯টি জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৪টি স্থানে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৩৫টি জায়গায় বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তিনটি স্থানে, যেখানে ছয়জন প্রার্থী মারধরের শিকার হয়েছেন। ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৮টি কেন্দ্রে এবং চারটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৩৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে দেশজুড়ে ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে; শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানকার ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে লাখো তরুণ, যুবক ও প্রবীণ ভোটাররা গ্রামেগঞ্জে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেছেন।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪ কোটি তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়াও প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নজরদারি করতে হাজারখানেক ড্রোন ব্যবহার করছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন রয়েছেন। এবার ৮৩ জন নারী প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৬৩ জন বিভিন্ন দলের এবং ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
রিপোর্টারের নাম 























