ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

রাতে ‘ঠুসঠাস’ শব্দে অতিষ্ঠ জনজীবন: শান্তিপূর্ণ ঘুমের দাবি নগরবাসীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের বেলায় হঠাৎ হঠাৎ বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিশেষ করে উৎসব-পার্বণ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে ঘিরে পটকা, আতশবাজি ও উচ্চস্বরে গান-বাজনার অননুমোদিত ব্যবহার রাতের নীরবতা বিঘ্নিত করছে। এতে ঘুমহীন রাত কাটছে অসংখ্য মানুষের, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী।

সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় এই শব্দতাণ্ডব, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। অননুমোদিত পটকা ও আতশবাজির ব্যবহার, উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং কিছু ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত উৎস থেকে সৃষ্ট বিকট শব্দে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী এবং শিক্ষার্থীরা। শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, বয়স্কদের হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে, আর অসুস্থ রোগীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় বিশ্রাম। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ভুক্তভোগী নাগরিকরা জানান, অনেক সময় রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত এই ধরনের শব্দ চলতে থাকে, যা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তারা বলছেন, রাতের নীরবতা রক্ষা করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিদ্যমান আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণের সময় এ ধরনের শব্দদূষণ চরমে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের জন্য। এছাড়াও, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য রাতের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য। এই মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান সাধারণ মানুষ, যাতে রাতে আর কোনো ‘ঠুসঠাস’ শব্দে তাদের শান্তিপূর্ণ ঘুম ব্যাহত না হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক: ৩৫ বছরেও হয়নি স্থায়ী বেড়িবাঁধ

রাতে ‘ঠুসঠাস’ শব্দে অতিষ্ঠ জনজীবন: শান্তিপূর্ণ ঘুমের দাবি নগরবাসীর

আপডেট সময় : ০৬:২২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের বেলায় হঠাৎ হঠাৎ বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিশেষ করে উৎসব-পার্বণ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে ঘিরে পটকা, আতশবাজি ও উচ্চস্বরে গান-বাজনার অননুমোদিত ব্যবহার রাতের নীরবতা বিঘ্নিত করছে। এতে ঘুমহীন রাত কাটছে অসংখ্য মানুষের, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী।

সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় এই শব্দতাণ্ডব, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। অননুমোদিত পটকা ও আতশবাজির ব্যবহার, উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং কিছু ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত উৎস থেকে সৃষ্ট বিকট শব্দে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী এবং শিক্ষার্থীরা। শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, বয়স্কদের হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে, আর অসুস্থ রোগীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় বিশ্রাম। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ভুক্তভোগী নাগরিকরা জানান, অনেক সময় রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত এই ধরনের শব্দ চলতে থাকে, যা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তারা বলছেন, রাতের নীরবতা রক্ষা করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিদ্যমান আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণের সময় এ ধরনের শব্দদূষণ চরমে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের জন্য। এছাড়াও, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য রাতের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য। এই মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান সাধারণ মানুষ, যাতে রাতে আর কোনো ‘ঠুসঠাস’ শব্দে তাদের শান্তিপূর্ণ ঘুম ব্যাহত না হয়।