ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গণতন্ত্রের নতুন ভোর: ভোটকেন্দ্রে উৎসবের আমেজ, উচ্ছ্বসিত ভোটাররা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ঘড়ির কাঁটা তখনো সকাল ৭টা পেরোয়নি। হালকা শীতের আমেজ আর সূর্যের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছিল চারদিকে। প্রতিদিনের সাধারণ দিনের মতো মনে হলেও, আজকের এই ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। গণতন্ত্রের নতুন পথে যাত্রার এক অবিস্মরণীয় দিনের শুরু এটি। মনে হচ্ছিল, গোটা জাতি যেন এই দিনটির জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। সূর্যোদয়ের অনেক আগে থেকেই ঘুম ভেঙেছে অনেকের। পরিবারের চোখে যে ছেলেটি আলসে বলে পরিচিত, সেও হয়তো আজ অন্যদের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে! কারণ, এটি তো জাতির এক নতুন করে জেগে ওঠার দিন; এমন দিনে কি আর ঘুমিয়ে থাকা যায়!

১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে গত ষোলো বছরের শাসনামলে মানুষের মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অগণিত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, গুম, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে। এ বদ্বীপের বাসিন্দাদের এক দুঃসহ সময় পার করতে হয়েছে।

অবশেষে, চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই কঠিন সময়ের অবসান ঘটে। প্রায় ১৪০০ প্রাণের বিনিময়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা অনেকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। এটি কারো কাছে অত্যুক্তি মনে হতে পারে, তবে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের স্বাধীনতা যে ফিরে এসেছে, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

আর এই কারণেই আজকের দিনে ভোট দিতে এসে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সীমাহীন উল্লাস। তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে এক ভিন্নরকম অনুভূতি। অনেক ভোটার বলছেন, ‘এমন একটি দিন আবার ফিরে আসবে, তা একসময় কল্পনাও করতে পারিনি। আজ সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে!’ গণতন্ত্রের এই নতুন ভোরে অংশ নিতে পেরে প্রতিটি ভোটারের মনেই যেন এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

গণতন্ত্রের নতুন ভোর: ভোটকেন্দ্রে উৎসবের আমেজ, উচ্ছ্বসিত ভোটাররা

আপডেট সময় : ০৬:১৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঘড়ির কাঁটা তখনো সকাল ৭টা পেরোয়নি। হালকা শীতের আমেজ আর সূর্যের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছিল চারদিকে। প্রতিদিনের সাধারণ দিনের মতো মনে হলেও, আজকের এই ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। গণতন্ত্রের নতুন পথে যাত্রার এক অবিস্মরণীয় দিনের শুরু এটি। মনে হচ্ছিল, গোটা জাতি যেন এই দিনটির জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। সূর্যোদয়ের অনেক আগে থেকেই ঘুম ভেঙেছে অনেকের। পরিবারের চোখে যে ছেলেটি আলসে বলে পরিচিত, সেও হয়তো আজ অন্যদের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে! কারণ, এটি তো জাতির এক নতুন করে জেগে ওঠার দিন; এমন দিনে কি আর ঘুমিয়ে থাকা যায়!

১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে গত ষোলো বছরের শাসনামলে মানুষের মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অগণিত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, গুম, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে। এ বদ্বীপের বাসিন্দাদের এক দুঃসহ সময় পার করতে হয়েছে।

অবশেষে, চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই কঠিন সময়ের অবসান ঘটে। প্রায় ১৪০০ প্রাণের বিনিময়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা অনেকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। এটি কারো কাছে অত্যুক্তি মনে হতে পারে, তবে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের স্বাধীনতা যে ফিরে এসেছে, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

আর এই কারণেই আজকের দিনে ভোট দিতে এসে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সীমাহীন উল্লাস। তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে এক ভিন্নরকম অনুভূতি। অনেক ভোটার বলছেন, ‘এমন একটি দিন আবার ফিরে আসবে, তা একসময় কল্পনাও করতে পারিনি। আজ সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে!’ গণতন্ত্রের এই নতুন ভোরে অংশ নিতে পেরে প্রতিটি ভোটারের মনেই যেন এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।