নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই তাঁর দল নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে যাবে না।
বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জুবায়ের। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠক শেষে জুবায়ের বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ইসি সচিবের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত নেতারা মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেন। প্রথমত, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা আমিরকে নগদ ৭৪ লাখ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে ‘নাটকীয়’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন জুবায়ের। তিনি জানান, ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ওই অর্থ বহন করা হচ্ছিল, যা কোনোভাবেই আইনত অপরাধ নয়। ওই নেতা বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন উল্লেখ করে জুবায়ের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
দ্বিতীয়ত, কুমিল্লা-৪ আসনের এক রাজনৈতিক নেতার ধমক ও উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জুবায়ের অভিযোগ করেন, ওই আসনে ভোটারদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একটি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের বক্তব্যের জের ধরে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি জানান।
তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘বডিওর্ন ক্যামেরা’ বণ্টনে অসামঞ্জস্যতার অভিযোগ তোলেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, যেসব আসনে জামায়াত প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে অস্বাভাবিক হারে বেশি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। এটি কাকতালীয় নাকি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা, তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জুবায়ের আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ও কিছু সংবাদকর্মী মিলে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নেতাদের হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন। তবে কোনো অপপ্রচারই তাঁদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















