আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) জানিয়েছেন, দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই র্যাব সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সারাদেশে নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে।
র্যাবের মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে সারাদেশের নির্বাচনি এলাকায় প্রায় ৭০০টি র্যাব টহল দল সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্ট্রাইকিং রিজার্ভ দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব সদর দপ্তরের অধীনে আরও ৩০টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কক্সবাজারে র্যাব ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক সংক্রান্ত যেকোনো হুমকি দ্রুত নিষ্ক্রিয় করতে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে সাতটি জোনে বিভক্ত করে সারাদেশে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি নির্বাচনি আসনে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা তথ্য সংগ্রহে তৎপর রয়েছেন। ভোটকেন্দ্র বা এর আশপাশে নাশকতা, ষড়যন্ত্র কিংবা বিশৃঙ্খলার কোনো চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, মহাসড়ক, নগরীর মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনো এলাকায় অতিরিক্ত ঝুঁকি বা উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখা দিলে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেবে।
বিশেষ করে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এলে নিকটস্থ র্যাব টহল দল বা র্যাব অফিসে দ্রুত জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনের আগের দিন, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়—এই তিন ধাপে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই র্যাবের মূল লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 























