ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যমে বিএনপিকে অধিক গুরুত্ব: গবেষণায় প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রচারণামূলক সংবাদ পরিবেশনে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ‘মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ’ কর্তৃক পরিচালিত ১৮ দিনের মিডিয়া কভারেজ বিশ্লেষণে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনী প্রচারণা সংশ্লিষ্ট সংবাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ডাটা প্রকাশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সমন্বয়ক প্লাবন তারিক এই চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারমূলক কার্যক্রমের মোট ২১টি গণমাধ্যমের (৯টি প্রিন্ট, ৫টি অনলাইন ও ৭টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া) সংবাদ কভারেজের ১৮ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণ ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি (ইলেকট্রনিক ও অনলাইন) এবং ২৩ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি (প্রিন্ট) পর্যন্ত প্রচারিত সংবাদগুলোর ওপর ভিত্তি করে করা হয়।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৯টি প্রিন্ট গণমাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে মোট ৭৪৭টি, যেখানে জামায়াতের সংবাদ ছিল ৩৬৪টি। প্রকাশিত ছবি সংখ্যার দিক থেকেও বিএনপি এগিয়ে ছিল; এই সময়ে বিএনপির ৬৬৬টি ছবি প্রকাশিত হয়, বিপরীতে জামায়াতের প্রকাশিত হয় ৩৬২টি। তবে, কিছু প্রিন্ট গণমাধ্যমে এই প্রবণতার ব্যতিক্রমও দেখা গেছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট পত্রিকার ক্ষেত্রে জামায়াতের সংবাদ ও ছবির সংখ্যা বিএনপির চেয়ে বেশি ছিল।

অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। ৫টি অনলাইন গণমাধ্যমে ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির প্রচারের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ১ হাজার ৪৯৮টি, আর জামায়াতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ৮২৭টি।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে, ছয়টি টেলিভিশন চ্যানেলের সন্ধ্যা ও রাতের প্রধান বুলেটিনে গড় প্রচার সময় বরাদ্দের ভিত্তিতে বিএনপি পেয়েছে ১০৫ মিনিট, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৪ মিনিট। একটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অবশ্য উভয় দলের জন্য সমান সময় বরাদ্দ ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে প্লাবন তারিক বলেন, “আমরা মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যম বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছি। কোনো গণমাধ্যমকে দোষারোপ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং পরিমাণগত উপাত্তের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রচারণা কভারেজে কোন রাজনৈতিক দলকে কেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। এই পরিমাণগত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, নির্বাচনী প্রচার কভারেজে অধিকাংশ গণমাধ্যম ভারসাম্য রাখতে পারেনি এবং বিএনপির প্রচারকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যমে বিএনপিকে অধিক গুরুত্ব: গবেষণায় প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রচারণামূলক সংবাদ পরিবেশনে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ‘মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ’ কর্তৃক পরিচালিত ১৮ দিনের মিডিয়া কভারেজ বিশ্লেষণে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনী প্রচারণা সংশ্লিষ্ট সংবাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ডাটা প্রকাশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সমন্বয়ক প্লাবন তারিক এই চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারমূলক কার্যক্রমের মোট ২১টি গণমাধ্যমের (৯টি প্রিন্ট, ৫টি অনলাইন ও ৭টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া) সংবাদ কভারেজের ১৮ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণ ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি (ইলেকট্রনিক ও অনলাইন) এবং ২৩ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি (প্রিন্ট) পর্যন্ত প্রচারিত সংবাদগুলোর ওপর ভিত্তি করে করা হয়।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৯টি প্রিন্ট গণমাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে মোট ৭৪৭টি, যেখানে জামায়াতের সংবাদ ছিল ৩৬৪টি। প্রকাশিত ছবি সংখ্যার দিক থেকেও বিএনপি এগিয়ে ছিল; এই সময়ে বিএনপির ৬৬৬টি ছবি প্রকাশিত হয়, বিপরীতে জামায়াতের প্রকাশিত হয় ৩৬২টি। তবে, কিছু প্রিন্ট গণমাধ্যমে এই প্রবণতার ব্যতিক্রমও দেখা গেছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট পত্রিকার ক্ষেত্রে জামায়াতের সংবাদ ও ছবির সংখ্যা বিএনপির চেয়ে বেশি ছিল।

অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। ৫টি অনলাইন গণমাধ্যমে ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির প্রচারের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ১ হাজার ৪৯৮টি, আর জামায়াতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ৮২৭টি।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে, ছয়টি টেলিভিশন চ্যানেলের সন্ধ্যা ও রাতের প্রধান বুলেটিনে গড় প্রচার সময় বরাদ্দের ভিত্তিতে বিএনপি পেয়েছে ১০৫ মিনিট, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৪ মিনিট। একটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অবশ্য উভয় দলের জন্য সমান সময় বরাদ্দ ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে প্লাবন তারিক বলেন, “আমরা মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যম বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছি। কোনো গণমাধ্যমকে দোষারোপ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং পরিমাণগত উপাত্তের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রচারণা কভারেজে কোন রাজনৈতিক দলকে কেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। এই পরিমাণগত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, নির্বাচনী প্রচার কভারেজে অধিকাংশ গণমাধ্যম ভারসাম্য রাখতে পারেনি এবং বিএনপির প্রচারকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।