ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী ডিউটিতে অনিয়ম ও ভুয়া সনদ: কঠোর অবস্থানে আনসার বাহিনী, অভিযুক্ত দলনেতা পলাতক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। সম্প্রতি বাহিনীর নিজস্ব নিবিড় তদারকিতে নির্বাচনী ডিউটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি জালিয়াতি ও দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩০ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত এক দলনেতার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ২২ নং ওয়ার্ডের টিডিপি দলনেতা মামুন অনৈতিকভাবে জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনী ডিউটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে তাদের ডিউটি দেওয়ার নাম করে জনপ্রতি আরও ১,১০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই ওই ৩৩০ জনকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযুক্ত মামুন বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, ভুয়া সনদধারী বা অযোগ্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না। বর্তমান প্রশাসন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

নির্বাচনী ডিউটিতে জালিয়াতি রোধ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাহিনীটি বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করছে। এখন থেকে ‘AVMIS’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে কেবল প্রকৃত ও বৈধ সনদধারীদের ডাটাবেজ যাচাই করে ডিউটিতে নিয়োজিত করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারুণ্য ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জাল সনদ শনাক্তকরণ ও নিয়োগ বাণিজ্যের মতো অনিয়ম রুখতে দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

বাহিনীটির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশগুলোতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে বাহিনীর কোনো সদস্যের ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তসহ প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই কঠোর ও শুদ্ধি অভিযান কেবল অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করছে না, বরং জাতীয় নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে এসএসএফের নিরাপত্তা পাচ্ছেন ড. ইউনূস

নির্বাচনী ডিউটিতে অনিয়ম ও ভুয়া সনদ: কঠোর অবস্থানে আনসার বাহিনী, অভিযুক্ত দলনেতা পলাতক

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। সম্প্রতি বাহিনীর নিজস্ব নিবিড় তদারকিতে নির্বাচনী ডিউটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি জালিয়াতি ও দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩০ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত এক দলনেতার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ২২ নং ওয়ার্ডের টিডিপি দলনেতা মামুন অনৈতিকভাবে জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনী ডিউটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে তাদের ডিউটি দেওয়ার নাম করে জনপ্রতি আরও ১,১০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই ওই ৩৩০ জনকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযুক্ত মামুন বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, ভুয়া সনদধারী বা অযোগ্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না। বর্তমান প্রশাসন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

নির্বাচনী ডিউটিতে জালিয়াতি রোধ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাহিনীটি বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করছে। এখন থেকে ‘AVMIS’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে কেবল প্রকৃত ও বৈধ সনদধারীদের ডাটাবেজ যাচাই করে ডিউটিতে নিয়োজিত করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারুণ্য ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জাল সনদ শনাক্তকরণ ও নিয়োগ বাণিজ্যের মতো অনিয়ম রুখতে দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

বাহিনীটির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশগুলোতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে বাহিনীর কোনো সদস্যের ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তসহ প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই কঠোর ও শুদ্ধি অভিযান কেবল অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করছে না, বরং জাতীয় নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।