ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনকালে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ বিধিনিষেধ: কঠোর নির্দেশনা জারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট ২২ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট বা সমর্থকদের কাছ থেকে কোনো প্রকার খাবার, উপহার বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে, প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ছবি তোলা, দীর্ঘ আলাপচারিতা বা ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা থেকেও তাদের বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের বা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোটারদের নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করার মতো কোনো কাজও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা কঠোরভাবে বারণ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর মিছিলে অংশগ্রহণ বা তাদের কার্যালয়ে উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

কর্মরত অবস্থায় কোনো পুলিশ সদস্য তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ প্রকাশ করতে পারবেন না, এমনকি কোনো বক্তব্যও দিতে পারবেন না। কোনো ধরনের গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচন আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী কোনো নির্দেশনা তারা পালন করতে বাধ্য নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা যাবে না। দায়িত্ব পালনকালে অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের দিন ব্যক্তিগত আলাপচারিতার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে যেকোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বা অসদাচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না এবং ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে কোনো প্রকার পূর্বানুমানমূলক বা অনুমানভিত্তিক আলাপচারিতা করা যাবে না।

অফিশিয়াল অনুরোধ ছাড়া স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি বা ভিডিও কারো কাছে পাঠানো যাবে না। কোনো ব্যক্তিগত আলাপে মগ্ন হওয়া, একত্রে জড়ো হয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করাও নিষিদ্ধ। জনসমাগমস্থল বা খোলা জায়গায় যত্রতত্র খাবার গ্রহণ, ফুটপাত বা টং দোকানে বসা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও, বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট, কলা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার গ্রহণ, অশোভন পোশাক পরিধান এবং অপেশাদার কাজ থেকে বিরত থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সকল বিধিনিষেধ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে এসএসএফের নিরাপত্তা পাচ্ছেন ড. ইউনূস

নির্বাচনকালে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ বিধিনিষেধ: কঠোর নির্দেশনা জারি

আপডেট সময় : ০৫:২১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট ২২ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট বা সমর্থকদের কাছ থেকে কোনো প্রকার খাবার, উপহার বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে, প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ছবি তোলা, দীর্ঘ আলাপচারিতা বা ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা থেকেও তাদের বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের বা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোটারদের নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করার মতো কোনো কাজও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা কঠোরভাবে বারণ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর মিছিলে অংশগ্রহণ বা তাদের কার্যালয়ে উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

কর্মরত অবস্থায় কোনো পুলিশ সদস্য তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ প্রকাশ করতে পারবেন না, এমনকি কোনো বক্তব্যও দিতে পারবেন না। কোনো ধরনের গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচন আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী কোনো নির্দেশনা তারা পালন করতে বাধ্য নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা যাবে না। দায়িত্ব পালনকালে অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের দিন ব্যক্তিগত আলাপচারিতার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে যেকোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বা অসদাচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না এবং ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে কোনো প্রকার পূর্বানুমানমূলক বা অনুমানভিত্তিক আলাপচারিতা করা যাবে না।

অফিশিয়াল অনুরোধ ছাড়া স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি বা ভিডিও কারো কাছে পাঠানো যাবে না। কোনো ব্যক্তিগত আলাপে মগ্ন হওয়া, একত্রে জড়ো হয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করাও নিষিদ্ধ। জনসমাগমস্থল বা খোলা জায়গায় যত্রতত্র খাবার গ্রহণ, ফুটপাত বা টং দোকানে বসা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও, বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট, কলা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার গ্রহণ, অশোভন পোশাক পরিধান এবং অপেশাদার কাজ থেকে বিরত থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সকল বিধিনিষেধ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।