ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নারী-কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ: ঐতিহ্যের ভাঙন, ভোটাধিকার প্রয়োগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। তবে, ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগের সাক্ষী হতে চলেছে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি প্রথাকে কেন্দ্র করে এই ইউনিয়নের নারী ভোটারদের ভোটদানে অনীহা ছিল প্রকট। এবার জেলা প্রশাসনের বিশেষ আয়োজনে সেই ঐতিহাসিক অচলায়তন ভাঙার পথে।

জানা গেছে, সত্তরের দশকে এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তির অনুরোধে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটদানে বিরত থাকার রেওয়াজ শুরু করেন। যদিও অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, ভোট দেওয়া ছিল প্রায় অনুপস্থিত। মাঝেমধ্যে হাতে গোনা কিছু নারী ভোট দিলেও তা ছিল নগণ্য। এইThe change in this tradition is a significant development for the democratic process.

এবার এই চিত্র বদলাতে জেলা প্রশাসন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮টি ভোটকেন্দ্রে এবার কেবলমাত্র নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে এই কেন্দ্রগুলোতে পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ৮টি কেন্দ্রে মোট ২০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই বুথগুলোতে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে সকল ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন করে নারী ম্যাজিস্ট্রেটও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৮ জন প্রার্থীকে মৌখিকভাবে ও লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা তাদের পোলিং এজেন্ট হিসেবেও নারী নিয়োগ করেন, যা নারী ভোটারদের আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দেবে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ভোটকেন্দ্রে নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল স্তরে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, এবারের নির্বাচনে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” এই উদ্যোগ কেবল নারীদের অংশগ্রহণই বাড়াবে না, বরং গণতন্ত্রের মূল চেতনায় সবাইকে শামিল করবে বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী-কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ: ঐতিহ্যের ভাঙন, ভোটাধিকার প্রয়োগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। তবে, ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগের সাক্ষী হতে চলেছে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি প্রথাকে কেন্দ্র করে এই ইউনিয়নের নারী ভোটারদের ভোটদানে অনীহা ছিল প্রকট। এবার জেলা প্রশাসনের বিশেষ আয়োজনে সেই ঐতিহাসিক অচলায়তন ভাঙার পথে।

জানা গেছে, সত্তরের দশকে এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তির অনুরোধে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটদানে বিরত থাকার রেওয়াজ শুরু করেন। যদিও অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, ভোট দেওয়া ছিল প্রায় অনুপস্থিত। মাঝেমধ্যে হাতে গোনা কিছু নারী ভোট দিলেও তা ছিল নগণ্য। এইThe change in this tradition is a significant development for the democratic process.

এবার এই চিত্র বদলাতে জেলা প্রশাসন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮টি ভোটকেন্দ্রে এবার কেবলমাত্র নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে এই কেন্দ্রগুলোতে পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ৮টি কেন্দ্রে মোট ২০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই বুথগুলোতে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে সকল ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন করে নারী ম্যাজিস্ট্রেটও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৮ জন প্রার্থীকে মৌখিকভাবে ও লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা তাদের পোলিং এজেন্ট হিসেবেও নারী নিয়োগ করেন, যা নারী ভোটারদের আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দেবে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ভোটকেন্দ্রে নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল স্তরে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, এবারের নির্বাচনে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” এই উদ্যোগ কেবল নারীদের অংশগ্রহণই বাড়াবে না, বরং গণতন্ত্রের মূল চেতনায় সবাইকে শামিল করবে বলে আশা করা যায়।