বিশ্বজুড়ে এক অন্যতম স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের নাম ডায়াবেটিস, যার প্রকোপ বাংলাদেশেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের নিরাপদ রোজা পালনের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। তবে সঠিক পরিকল্পনা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীই নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।
ঝুঁকিপূর্ণ রোগী ও বিকল্প ব্যবস্থা:
কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজা রাখা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিস (IDDM), গুরুতর বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ (ESRD), হার্ট ফেইলিউর, স্ট্রোক-পরবর্তী অবস্থা অথবা অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই ধরনের রোগীদের জন্য রোজা পালন থেকে অব্যাহতি রয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে ফিদিয়া বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা:
রমজান শুরু হওয়ার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর উচিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং রোজা রাখার বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ নেওয়া। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ ও ইনসুলিনের ডোজ এবং সময় পরিবর্তন করা অপরিহার্য।
মেটফরমিন: এই ওষুধটি সাধারণত নিরাপদ এবং ইফতার ও সাহরিতে ভাগ করে গ্রহণ করা যেতে পারে।
সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ওষুধ: এ ধরনের ওষুধে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) ঝুঁকি থাকে। তাই এর ডোজ এবং গ্রহণের সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
ইনসুলিন ব্যবহারকারী:
সকালের ইনসুলিনের ডোজ ইফতারের সময়ে নেওয়া যেতে পারে।
সন্ধ্যার ডোজের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ সাহরিতে গ্রহণ করা যেতে পারে।
বেসাল ইনসুলিন সাধারণত সন্ধ্যায় দেওয়া হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, ওষুধের ডোজ পরিবর্তন সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই করতে হবে।
রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ:
রোজা অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। তাই দিনের মধ্যে অন্তত দু-তিনবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপ করা উচিত। এটি আপনার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে সহায়ক হবে।
জরুরি অবস্থায় করণীয়:
রোজা চলাকালীন যদি অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা, চরম দুর্বলতা, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা বা বমি বমি ভাব দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে রোজা ভেঙে ফেলা এবং শর্করাযুক্ত খাবার বা পানি গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
খাদ্যাভ্যাস:
রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ, কম চর্বি ও কম চিনিযুক্ত খাবার নির্বাচন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাহরি ও ইফতারের খাবারে এই বিষয়গুলো মেনে চললে স্বাস্থ্যকর উপায়ে রোজা পালন সম্ভব।
সঠিক প্রস্তুতি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীই রমজান মাসে নিরাপদে রোজা পালন করতে পারবেন।
—
রিপোর্টারের নাম 























