দীর্ঘ দেড় দশকের একচ্ছত্র শাসন, ভোটাধিকার হরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দুঃসহ অধ্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিগত ১৫ বছরে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে যে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়ে রাষ্ট্র এখন প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত গণভোটকে দেখা হচ্ছে জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সোপান হিসেবে।
বিগত সরকারের শাসনামলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের কালো অধ্যায়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন তদন্ত কমিশন এবং গুম কমিশনের প্রতিবেদনেও এই সত্যটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ২০১৪ সালের ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ নির্বাচন, ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি প্রার্থীর’ সাজানো নির্বাচন—এই তিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছিল। প্রতিটি নির্বাচনেই সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী পক্ষকে মাঠছাড়া করে ভোটাধিকারকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী এই শাসন টিকিয়ে রাখতে গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগকে নজিরবিহীনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আইনের শাসনকে পদদলিত করা হয়েছিল। শুধু রাজনৈতিক নিপীড়নই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ব্যাংক লুটপাট, নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে যে পৈশাচিক গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তার মূলে রয়েছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা। নির্বাচন তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিগত তিনটি নির্বাচন কোনোভাবেই বৈধ বা গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি রুটিন নির্বাচন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রকৃত ‘আসল ভোট’ প্রদানের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। ধ্বংসপ্রাপ্ত বিচার ব্যবস্থা, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আস্থাহীন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পুনর্গঠন করে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই এখন সময়ের প্রধান দাবি। দেশের আপামর জনতা এখন একটি স্বচ্ছ ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায়, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক ছায়া কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
রিপোর্টারের নাম 






















