ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ দেশব্যাপী যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য দেশজুড়ে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (মোট ৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এছাড়াও, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকের মতো যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু যানবাহনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন। জরুরি সেবা যেমন ঔষধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা এবং অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহনগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এছাড়াও, টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দরে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজন আনা-নেওয়া করার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী বা স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো যানবাহনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে (যথাযথ নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন এবং গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে) একটি করে ছোট আকারের যানবাহন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। নির্বাচন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে। টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের যানবাহনগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাইরে যাওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান সড়কের সংযোগ সড়কসহ সংশ্লিষ্ট সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনা করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে উল্লিখিত যানবাহনগুলো ছাড়াও অন্যান্য যানবাহনের ওপরও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের অর্পণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিহিংসার বশে তরমুজ ক্ষেতে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ: পাঁচ কৃষকের ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ দেশব্যাপী যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য দেশজুড়ে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (মোট ৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এছাড়াও, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকের মতো যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু যানবাহনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন। জরুরি সেবা যেমন ঔষধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা এবং অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহনগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এছাড়াও, টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দরে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজন আনা-নেওয়া করার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী বা স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো যানবাহনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে (যথাযথ নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন এবং গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে) একটি করে ছোট আকারের যানবাহন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। নির্বাচন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে। টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের যানবাহনগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাইরে যাওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান সড়কের সংযোগ সড়কসহ সংশ্লিষ্ট সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনা করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে উল্লিখিত যানবাহনগুলো ছাড়াও অন্যান্য যানবাহনের ওপরও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের অর্পণ করা হয়েছে।