গত ১০ আগস্ট ভোরে গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারানো অনেকের কোনো চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলায় এমন সব নিষিদ্ধ ও শক্তিশালী মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার তীব্রতায় মানুষের শরীর আক্ষরিক অর্থেই ‘বাষ্পীভূত’ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির চিত্র, যেখানে স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের দাফনযোগ্য কোনো দেহাবশেষ পর্যন্ত খুঁজে পাননি।
হামলার সেই ভোরে আল-তাবিন স্কুলে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষ যখন প্রার্থনায় মশগুল ছিলেন, তখনই আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু। ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপের মাঝে শুরু হয় প্রিয়জনদের খোঁজে স্বজনদের আর্তনাদ। এমনই এক শোকাতুর মা ইয়াসমিন মাহানি, যিনি তার সন্তান সাদকে খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর স্বামীর আহাজারি শুনলেও নিজের ছেলেকে কোথাও খুঁজে পাননি তিনি।
ইয়াসমিন মাহানির বর্ণনায় সেই ভয়াবহতা ফুটে ওঠে। তিনি জানান, মসজিদের ভেতরে ঢোকার পর তাকে মানুষের রক্ত আর বিচ্ছিন্ন মাংসের স্তূপের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। টানা কয়েক দিন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে এবং মর্গে মর্গে ঘুরেও ছেলের কোনো হদিস মেলেনি। এমনকি শেষ বিদায় জানানোর জন্য সাদের এক টুকরো দেহাবশেষও খুঁজে পাননি তিনি। একজন মায়ের জন্য সন্তানের দাফন করার মতো মৃতদেহটুকু না পাওয়া ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
তদন্তে জানা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যবহৃত বোমার প্রচণ্ড তাপ এবং বিস্ফোরণের শক্তিতে বহু মানুষের শরীর মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মহলে নিষিদ্ধ এমন মারণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট এই ধ্বংসযজ্ঞ গাজার মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রিয়জনের লাশের বদলে কেবল ছাই আর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার এই অভিজ্ঞতা এখন গাজার অসংখ্য পরিবারের নিত্যদিনের দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















