উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টের মাত্র ৩৩টি ম্যাচ শেষ হতেই গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বড় চমক। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপের পর গত ৬৮ বছরে কোনো আসরেই এত দ্রুত ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার নজির নেই। গত শনিবার সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয়ের ম্যাচে ডাচ তারকা কোডি গাকপোর পা থেকে আসে আসরের শততম গোলটি।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে মাত্র ২০ ম্যাচে ১০০ গোল হয়েছিল, যা এখনো পর্যন্ত দ্রুততম। তবে আধুনিক ফুটবলের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ বিশ্বকাপ অন্য সব আসরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপে এই মাইলফলক ছুঁতে লেগেছিল ৩৬টি ম্যাচ, আর ১৯৯৪ ও ১৯৭৮ সালে লেগেছিল ৩৮টি করে ম্যাচ। বর্তমান আসরে ম্যাচ প্রতি গোলের গড় ৩.০৯, যা গত কাতার বিশ্বকাপের ২.৬৯ গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর জুলিয়ান কুইনোনেসের উদ্বোধনী গোলের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই গোল উৎসব অব্যাহত রয়েছে বড় বড় জয়ের মাধ্যমে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই গোলবন্যার পেছনে বেশ কিছু কারিগরি ও কৌশলগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবারের অফিশিয়াল ‘ট্রিওন্ডা’ বলটির গতিপথ বাতাসে কিছুটা অনিশ্চিত হওয়ায় গোলরক্ষকদের জন্য তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয়ত, উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে ফুটবলাররা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, যার ফলে ম্যাচের শেষভাগে রক্ষণভাগের মনোযোগ হারাচ্ছে। দেখা গেছে, আসরের মোট গোলের প্রায় ২৮.৬ শতাংশই এসেছে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে। এছাড়া ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৩ মিনিটের পানির বিরতি কোচদের জন্য কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করছে। দল সংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়াও গোলের ব্যবধান বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 






















