দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ১৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরকারি সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিগত সময়ে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া এই কর্মকর্তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা বহাল রাখার এই আদেশ গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত হওয়া এই ১৪১ জন অফিসারের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা হলো। এদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১০ জন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১২ জন রয়েছেন।
এসব কর্মকর্তা তাদের চাকরি জীবনে বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে প্রাপ্য সুবিধা ফিরে পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাদের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর, কমিটি তাদের ভূতাপেক্ষ অবসর/পদোন্নতি এবং তদনুযায়ী বিধি মোতাবেক বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাদের প্রাপ্য সুবিধার কথা জানানো হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো লে. জেনারেল মো. আমিনুল করীম তার বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন। লে. জেনারেল সিনা ইবনে জামালী বিধি মোতাবেক আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিনও তার বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। আয়নাঘর থেকে ফিরে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহীল আমান আযমী মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতিসহ বকেয়া বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন। বরখাস্ত হওয়া লে. কর্নেল আফজাল নাসেরকে পূর্ণ কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়ে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
একইভাবে, নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমোডোর এম নাসির রিয়াল এডমিরাল পদবিতে পদোন্নতিসহ বেতন-ভাতার সুবিধা পাবেন। বিমান বাহিনীর বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া এয়ার ভাইস মার্শাল দেলোয়ার হোসেনও তার প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন। এই আদেশে উল্লিখিত কর্মকর্তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি, একাধিক কর্মকর্তার জন্য জলসিড়ি প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















