আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত বডি ক্যামেরা ও প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি নির্বাচন কমিশনের বডি ক্যামেরা বরাদ্দে বৈষম্য এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ক্ষেত্রে ধীরগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা বরাদ্দে মারাত্মক বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু কেন্দ্রে যেখানে ১০০টির বেশি বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অন্য কেন্দ্রে মাত্র ৫ থেকে ১০টি ক্যামেরা বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশেষভাবে জামায়াত ও সমমনা জোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় যেখানে বডি ক্যামেরা বেশি, সেখানে বিরোধী পক্ষের প্রার্থীদের এলাকায় ক্যামেরা কম দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্য কি বিশেষ কোনো দলকে সন্ত্রাস বা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ করে দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং আমরাও সন্দিহান।”
জুবায়ের আরও বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা শুরু থেকেই বডি ক্যামেরা বিতরণের দাবি জানিয়ে আসছি। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বও তুলে ধরেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক উদ্যোগ বা সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৮ থেকে ২০ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানোর কথা বলা হলেও, সেগুলো ঠিক কতগুলো কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে, তার কোনো স্বচ্ছ জবাব নেই। আমরা মনে করি, এই ঘাটতি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় বাধা।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার অপর্যাপ্ততার কারণে সন্ত্রাসীরা সহিংসতা চালানোর সুযোগ পাবে এবং ঘটনার কোনো প্রামাণ্য নথি থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিতে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও প্রতিবন্ধকতা, যানজট সৃষ্টি বা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
ভুয়া প্রচারণার অভিযোগ:
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নামে ভুয়া ফটোকার্ড ও লিফলেট ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই প্রচারণায় দাবি করা হচ্ছে যে, দলটি মানুষকে টাকা-পয়সা দিচ্ছে এবং বিকাশ নম্বর পেলে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি অবিলম্বে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























