আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কারখানার ছুটি ও ঈদসদৃশ ঘরমুখো মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলের হাঁটুভাঙা পর্যন্ত বিস্তৃত এই যানজটে আটকা পড়ে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও যাত্রীর ভিড়ে মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রি-মোড় এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রি-মোড় থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকায় সাধারণ যাত্রীরা তীব্র গরমে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আটকে পড়ে হাঁসফাঁস করছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক পোশাক কারখানায় একটানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে একযোগে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, যাত্রীর চাপ ও পরিবহনের স্বল্পতার সুযোগে কয়েকটি গণপরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জগামী যাত্রী ইমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাধারণ সময়ে যেখানে ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, এখন সেখানে ১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।” সিরাজগঞ্জের যাত্রী আম্বিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “গ্রামে গিয়ে ভোট দেবো ঠিকই, কিন্তু এই অতিরিক্ত গাড়িভাড়া কে দেবে? সরকার ভোট দিতে বলছে, অথচ পরিবহনগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। যত বিপদ শুধু গরিব মানুষের।”
রাজীব পরিবহনের সুপারভাইজার জিকু জানান, “গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। সেখান থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চন্দ্রা আসতে আমাদের প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছে।” অপরদিকে ঢাকাগামী নাফিস পরিবহনের চালক তারা মিয়া বলেন, “হাঁটুভাঙা থেকে চন্দ্রা পৌঁছাতে ২ ঘণ্টা লেগেছে। মনে হচ্ছে, ঢাকা যেতে পুরো দিনই কেটে যাবে।”
মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাত হোসেন বলেন, “আসন্ন নির্বাচন ও কারখানার ছুটি একযোগে হওয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণেই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি আরও জানান, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























