আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি তুঙ্গে। সারাদেশে ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১৫টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যেখানে অনেক আসনেই ৮০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনকে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রগুলোর অবস্থান, অতীতের সহিংসতার তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট ২১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬১৪টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি সেনা ব্রিফিংয়ে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ঢাকার দুটি আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার সিটি কর্পোরেশনভুক্ত ১৫টি সংসদীয় আসনের বেশিরভাগ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে ১১৫টির মধ্যে ৯৩টি, ঢাকা-৫ আসনে ১৫০টির মধ্যে ১৩৬টি, ঢাকা-৬ আসনে ১০০টির মধ্যে ৭৯টি, ঢাকা-৭ আসনে ১৬৪টির মধ্যে ১১৮টি, ঢাকা-৮ আসনে ১০৮টির মধ্যে ৮৭টি, ঢাকা-৯ আসনে ১৬৯টির মধ্যে ১৩০টি, ঢাকা-১০ আসনে ১৩৬টির মধ্যে ৯০টি, ঢাকা-১১ আসনে ১৬২টির মধ্যে ১২৮টি, ঢাকা-১২ আসনে ১৩০টির মধ্যে ৭৩টি, ঢাকা-১৩ আসনে ১৩৮টির মধ্যে ১১০টি, ঢাকা-১৪ আসনে ১৫৩টির মধ্যে ১২৪টি, ঢাকা-১৫ আসনে ১২৭টির মধ্যে ৮৩টি, ঢাকা-১৬ আসনে ১৩৭টির মধ্যে ১১টি এবং ঢাকা-১৭ আসনের ১২৪টির মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে (ঢাকা-১, ঢাকা-২, ঢাকা-৩, ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০) মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮৯৩টি। এর মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাকি ৭৯৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ঢাকাসহ সারাদেশে বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া, এসব কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সারাদেশে এক লাখেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ সদস্য, আনসার ভিডিপি এবং গ্রাম পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেখানে তিন থেকে চারজন অস্ত্রসহ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সংখ্যা একই থাকবে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে চারজন করে অস্ত্রসহ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। সারাদেশে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে, যাদের সঙ্গে সাপোর্টিং হিসেবে আরও ৩০ হাজার পুলিশ বাহিনীর সদস্য যুক্ত থাকবে।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে সারাদেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ পুলিশ সদস্যই নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজারের বেশি বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যার মধ্যে ১৫ হাজার অনলাইন এবং ১০ হাজার অফলাইন।
রিপোর্টারের নাম 
























