ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে স্টার শিপ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১১ শ্রমিক, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের বায়েজিদ শিল্পাঞ্চলে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টার শিপ দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বায়েজিদের অক্সিজেন মোড় সংলগ্ন স্টার শিপ কারখানায় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছিল। এ সময় মেশিনের একটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে কারখানার একটি অংশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের পরপরই কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ, চন্দনপুরা ও নন্দনকানন স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দগ্ধ ১১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন কর্মরত শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং কর্তৃপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রমিকদের অরক্ষিত পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। এমনকি বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা রক্ষীরা কারখানার সব গেট বন্ধ করে দেয়। ফলে অন্যান্য স্থানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধারে অংশ নিতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন জানান, আবুল খায়ের গ্রুপের দুগ্ধ কারখানায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বোতল জাতীয় যন্ত্রাংশ থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আবুল খায়ের গ্রুপের এইচআর এডমিন বিভাগের ইনচার্জ মো. ইমরুল কাদের ভূঁইয়া দাবি করেছেন, তাদের মিল্ক প্রোডাক্ট কারখানায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, কারখানায় নিরাপত্তাজনিত কোনো ত্রুটি ছিল না। তার মতে, দুর্ঘটনার খবর শুনে অনেক লোক কারখানায় লুটতরাজ করতে চলে আসে। তিনি আহত শ্রমিকের সংখ্যা মাত্র তিনজন বলেও দাবি করেন, যা ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সূত্রের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় সংঘাতে নতুন ট্র্যাজেডি: কুয়েতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে স্টার শিপ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১১ শ্রমিক, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের বায়েজিদ শিল্পাঞ্চলে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টার শিপ দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বায়েজিদের অক্সিজেন মোড় সংলগ্ন স্টার শিপ কারখানায় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছিল। এ সময় মেশিনের একটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে কারখানার একটি অংশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের পরপরই কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ, চন্দনপুরা ও নন্দনকানন স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দগ্ধ ১১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন কর্মরত শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং কর্তৃপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রমিকদের অরক্ষিত পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। এমনকি বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা রক্ষীরা কারখানার সব গেট বন্ধ করে দেয়। ফলে অন্যান্য স্থানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধারে অংশ নিতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন জানান, আবুল খায়ের গ্রুপের দুগ্ধ কারখানায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বোতল জাতীয় যন্ত্রাংশ থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আবুল খায়ের গ্রুপের এইচআর এডমিন বিভাগের ইনচার্জ মো. ইমরুল কাদের ভূঁইয়া দাবি করেছেন, তাদের মিল্ক প্রোডাক্ট কারখানায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, কারখানায় নিরাপত্তাজনিত কোনো ত্রুটি ছিল না। তার মতে, দুর্ঘটনার খবর শুনে অনেক লোক কারখানায় লুটতরাজ করতে চলে আসে। তিনি আহত শ্রমিকের সংখ্যা মাত্র তিনজন বলেও দাবি করেন, যা ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সূত্রের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।