পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনেছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগ ভিন্ন। বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় তাদের শাপলা কলি নামক একটি শোডাউন চলছিল। এ সময় সড়কের ওপর টানানো বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের নির্বাচনী ব্যানার জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনা জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে পঞ্চগড় আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার গভীর রাতে ধানের শীষের প্রার্থী নওশাদ জমির পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আটোয়ারী উপজেলা থেকে জনসভা শেষে শোডাউন করে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাদের গতিরোধ করেন। এরপর তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। এই হামলায় একজন নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে দ্রুত জড়িতদের আটকের দাবি জানান।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষের কর্মীরা আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ জানায়নি। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























