ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ভোটের মাঠে ভয়ের রাজত্ব: প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি বদলানোর আহ্বান ব্যারিস্টার ফুয়াদের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ভয় ও শঙ্কা বিরাজ করছে। একটি মহল ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোটদানে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচন চায়, যা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ভোটাররা ভয়ের মধ্যে আছেন, শঙ্কায় আছেন, যা সারাদেশের একই চিত্র। তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে এখনও পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর দাবি, প্রশাসন এখনও মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন আপাতদৃষ্টিতে ‘ঈদের আনন্দ’ দেখলেও বাস্তবে ভোটারদের মধ্যে এই আনন্দ নেই। এমনকি কার দোকানে বসে চা খাবে বা খাবে না, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই নির্বাচনে কী ফলাফল আসবে, তার কোনো পূর্বাভাস কারো কাছে নেই বলে মন্তব্য করেন ফুয়াদ। তাঁর মতে, জরিপে যা-ই বলা হোক না কেন, তার সত্যতা তখনই প্রমাণিত হবে যখন ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি মনে করেন না যে পুরো মাঠ প্রশাসন খারাপ নির্বাচন চায়, তবে টিএনও থেকে শুরু করে ডিসি পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ভালো নির্বাচন পরিচালনা করেননি। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ফুয়াদ বলেন, গত বিশ বছরে নির্বাচন কমিশনের যারা দায়িত্বে আছেন, তারা কোনো ভালো নির্বাচন করেননি বা দেখেননি। ফলে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট।

প্রশাসন ও ইসির কর্মকর্তারা নিজেদের ক্যারিয়ার ও পদ-পদবী নিয়ে শঙ্কিত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁদের ভয়, যদি এক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেই দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে পরবর্তীতে তাদের উপর প্রতিশোধ নেওয়া হতে পারে। এই আশঙ্কার কারণেই প্রশাসনের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন বাবর, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এজেন্ট আব্দুর রহমান অলিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় সংঘাতে নতুন ট্র্যাজেডি: কুয়েতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে শিশুর মৃত্যু

ভোটের মাঠে ভয়ের রাজত্ব: প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি বদলানোর আহ্বান ব্যারিস্টার ফুয়াদের

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ভয় ও শঙ্কা বিরাজ করছে। একটি মহল ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোটদানে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচন চায়, যা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ভোটাররা ভয়ের মধ্যে আছেন, শঙ্কায় আছেন, যা সারাদেশের একই চিত্র। তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে এখনও পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর দাবি, প্রশাসন এখনও মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন আপাতদৃষ্টিতে ‘ঈদের আনন্দ’ দেখলেও বাস্তবে ভোটারদের মধ্যে এই আনন্দ নেই। এমনকি কার দোকানে বসে চা খাবে বা খাবে না, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই নির্বাচনে কী ফলাফল আসবে, তার কোনো পূর্বাভাস কারো কাছে নেই বলে মন্তব্য করেন ফুয়াদ। তাঁর মতে, জরিপে যা-ই বলা হোক না কেন, তার সত্যতা তখনই প্রমাণিত হবে যখন ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি মনে করেন না যে পুরো মাঠ প্রশাসন খারাপ নির্বাচন চায়, তবে টিএনও থেকে শুরু করে ডিসি পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ভালো নির্বাচন পরিচালনা করেননি। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ফুয়াদ বলেন, গত বিশ বছরে নির্বাচন কমিশনের যারা দায়িত্বে আছেন, তারা কোনো ভালো নির্বাচন করেননি বা দেখেননি। ফলে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট।

প্রশাসন ও ইসির কর্মকর্তারা নিজেদের ক্যারিয়ার ও পদ-পদবী নিয়ে শঙ্কিত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁদের ভয়, যদি এক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেই দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে পরবর্তীতে তাদের উপর প্রতিশোধ নেওয়া হতে পারে। এই আশঙ্কার কারণেই প্রশাসনের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন বাবর, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এজেন্ট আব্দুর রহমান অলিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।