আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলকে ব্যবহার করে এসব অস্ত্র দেশে আনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সরাসরি মদদে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট একদল ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং সাবেক রেলমন্ত্রী মজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মহিবুল আলম মজুমদার কাননসহ বেশ কয়েকজন নেতা এই অস্ত্র পাচার প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছেন। মূলত নির্বাচনে সহিংসতা ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফেনী ও কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১০০টি আগ্নেয়াস্ত্র দেশে ঢোকানোর পরিকল্পনা করেছে দুই থেকে তিনটি পাচারকারী সিন্ডিকেট। এই চক্রের সদস্যরা মাদক চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত। নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ফেনী জেলার দুজন সাবেক নেতাসহ প্রায় ৫০ জনের একটি দলকে ভারতের আগরতলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে, বিশেষ করে ২৮ ও ২৯ তারিখের দিকে অন্তত ১০ থেকে ১৪টি আধুনিক শর্টগান ও পিস্তল ফেনীর পরশুরাম সীমান্তের বিলোনিয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে এসব অস্ত্রের বেশ কিছু অংশ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্যাডারদের হাতে পৌঁছে গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকা এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত বুধবার রাতে ছাগলনাইয়া উপজেলার বাগানবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অবৈধ অস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের চালান দেশে ঢুকেছে। ফেনীর পাশাপাশি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তকেও পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























