চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক শতভাগ সরবরাহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার দাবি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় দেড় মাস পর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংস্থাটি। এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বই বিতরণের এই বিষয়টিকে সংস্থাটির ‘বড় সফলতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী স্তরে বইয়ের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬১টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩টি। এছাড়াও, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ৬ হাজার ২৬টি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।
পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও মুদ্রণে গুণগত মান নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। ব্যবহৃত কাগজের মান পরীক্ষার জন্য এনসিটিবি দপ্তরে ল্যাবরেটরি স্থাপন, কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভির মাধ্যমে অনলাইন মনিটরিং এবং এনসিটিবির কর্মকর্তাদের সরেজমিনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বইয়ের ছাপার মান ও বাঁধাইয়ের উৎকর্ষ নিশ্চিত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্যরাও মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে সময়মতো বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছেন।
এনসিটিবি আরও জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই গত ২৮ ডিসেম্বর সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ (সফটকপি) সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তক এনসিটিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবারই দ্রুততম সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শতভাগ বই সরবরাহ হতে মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় লেগেছিল। তবে, প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি, বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করে যে, সংশ্লিষ্ট সকল মহলের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক সহায়তার ফলেই গুণগত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ফলপ্রসূ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের এই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আগামী শিক্ষাবর্ষেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে এনসিটিবি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রিপোর্টারের নাম 






















