আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারের সমন্বয়ে এক বিশেষ যৌথ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিজয় সরণি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে এই মহড়া সম্পন্ন হয়। মহড়ায় একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়, যেখানে দেখা যায় একদল দুষ্কৃতকারী ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটগ্রহণে বাধা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে টহলরত সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরবর্তীতে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যদের সাথে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে হামলাকারীদের প্রতিহত করে পুনরায় নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
সীতাকুণ্ড আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ফাহিম, মেজর ফেরদৌসী, মেজর নাফিউর এবং ক্যাপ্টেন ইলহামসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই মহড়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো কার্যক্রমটি প্রত্যক্ষ করেন। নিরাপত্তা মহড়া পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়ার জিওসি এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, নির্বাচনের দিন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথবাহিনী কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নেবে, এই মহড়ার মাধ্যমে তার বাস্তব অনুশীলন সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাহিনীগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও পেশাদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ ধরনের সতর্কতামূলক ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 























