ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর নির্বাচনি জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সালথা উপজেলা সদরের সালথা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় মানুষের অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস ও ঢল দেখা যায়।
দুপুরের পর থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয় মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেককে আশপাশের ভবন ও ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে জনসভা উপভোগ করতে দেখা যায়। জনসভা ঘিরে পথের দু’ধারে স্লোগান, করতালির পাশাপাশি ফুলেল শুভেচ্ছায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের অনেকেই হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানান এবং মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। শামা ওবায়েদের বক্তব্য শুনতে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিলেন অসংখ্য মানুষ।
জনসভায় শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার মুরব্বি, আপনারাই আমার ভাই-বোন। আমি আপনাদের সেবা করার জন্য একটি সুযোগ চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাবার মতো আমিও আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।” নির্বাচিত হলে সালথা ও নগরকান্দার প্রতিটি মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনি বার্তা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।” উপস্থিত সকলের প্রতি দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপির কাছে সকল ধর্ম, দল ও মত নিরাপদ। বিশেষ করে সম্মানিত আলেম-উলামারা শুধুমাত্র ধানের শীষের পতাকাতলে নিরাপদ।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শাহজাদা মিয়া, স্পারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, বিএনপি নেতা শাহীন মাতুব্বর এবং খন্দকার খায়রুল বাশার আজাদ প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 























