সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের বেবিষ্ট্যান্ডে গতকাল সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ। দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সমাবেশটিকে এক জনসমুদ্রে পরিণত করে। বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এই সমাবেশ দুপুর থেকেই কানায় কানায় ভরে ওঠে।
সমাবেশস্থলের দিকে মিছিলের পর মিছিল এসে মিলিত হতে থাকলে পুরো এলাকা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই উপস্থিতি এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম আল মাদানী দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন দেখেছে। উন্নয়নের নামে অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সেভাবে হয়নি। এই মুহূর্তে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের প্রতীক হলো দাঁড়িপাল্লা।”
ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত। আপনারা যদি আমাকে এই আসনে নির্বাচিত করেন, তবে আমি জনগণের সেবক হিসেবে দিনরাত কাজ করব। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি বদ্ধপরিকর।”
তিনি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তাঁর প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ছাতক-দোয়ারাবাজারে পৃথক মহিলা কলেজ স্থাপন, জরাজীর্ণ ছাতক পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর, দক্ষিণ ছাতকে পৃথক উপজেলা গঠনের উদ্যোগ, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। পাশাপাশি, তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বক্ষেত্রে নারী সমাজের সম্মান ও নিরাপত্তা বিধানের ব্যাপারেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, “মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী একজন সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাগুরু। তিনি বিশ্বখ্যাত মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এমন একজন যোগ্য আলেম এই অঞ্চলে নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অধ্যক্ষ আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি হাফিজ জাকির হোসাইন-এর সঞ্চালনায় এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় উচ্চতর পরিষদের সদস্য মাওলানা সাদিক সালীম, সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি শাহীন আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার, এডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার, মোঃ শাহ আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা রমিজ উদ্দিন, ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট সুফি আলম সুহেল প্রমুখ।
এছাড়াও, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির, সেক্রেটারি মাওলানা আলমাছ উদ্দিন, দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, সিলেট মহানগর জামায়াতের সুরা সদস্য এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাওলানা খায়রুল ইসলাম রফিক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান আহমদ, ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, ছাতক উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মামুন আহদ তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে ঘরে ফেরার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আফজাল হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামায়াতের পৌর আমীর প্রকৌশলী নোমান আহমদ। সবশেষে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির-এর পরিচালনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য সমাবেশের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
—
রিপোর্টারের নাম 























