ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ন্যায়, ইনসাফ এবং জনগণের রাষ্ট্রের পক্ষে ইউটিএলের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের প্রেক্ষাপটে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, সংগঠনটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএল এই আহ্বান জানায়। সংগঠনের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, যা কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং শাসনব্যবস্থার মূল চরিত্র নির্ধারণ করবে।

অধ্যাপক ড. যুবায়ের বলেন, গত দেড় দশকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈষম্য, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সূচনার উল্লেখ করে বলেন, সেই আত্মত্যাগ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে।

গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক যুবায়ের জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কোনো সাধারণ সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন যে, দীর্ঘকাল ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করা জরুরি। তাই, নির্বাচন ও গণভোটে ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট গণনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক যুবায়ের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাকে যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করলেও, কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘হঠকারী’ বলে মন্তব্য করেন। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএলের সদস্য সচিব ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ন্যায়, ইনসাফ এবং জনগণের রাষ্ট্রের পক্ষে ইউটিএলের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের প্রেক্ষাপটে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, সংগঠনটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএল এই আহ্বান জানায়। সংগঠনের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, যা কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং শাসনব্যবস্থার মূল চরিত্র নির্ধারণ করবে।

অধ্যাপক ড. যুবায়ের বলেন, গত দেড় দশকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈষম্য, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সূচনার উল্লেখ করে বলেন, সেই আত্মত্যাগ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে।

গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক যুবায়ের জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কোনো সাধারণ সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন যে, দীর্ঘকাল ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করা জরুরি। তাই, নির্বাচন ও গণভোটে ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট গণনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক যুবায়ের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাকে যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করলেও, কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘হঠকারী’ বলে মন্তব্য করেন। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএলের সদস্য সচিব ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।