কলম্বিয়ায় অস্বাভাবিক ও প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ গত রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উত্তর আমেরিকা থেকে আসা একটি শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘আইডিয়াম’ জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা থেকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা শীতল বায়ুপ্রবাহটি কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূলে আঘাত হানে। এর প্রভাবে গত মাসে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতিবৃষ্টিই মূলত পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নারিনো প্রদেশে। সেখানে শুক্রবার রাতে টানা বর্ষণের ফলে একটি পাহাড়ি ঝিরিতে আকস্মিক ঢল নামে। এর পরপরই বিশাল এলাকা জুড়ে ভূমিধস শুরু হয় এবং বেশ কিছু বসতবাড়ি কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়ে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে কাদামাটির নিচে তল্লাশি চালাতে প্রশিক্ষিত কুকুরও নিয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ইউএনজিআরডি) জানিয়েছিল, দেশের অন্যান্য প্রান্তে বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এখন কলম্বিয়াতেও দৃশ্যমান। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই দেশটিতে ঋতুভেদে আবহাওয়ার যে স্বাভাবিক ভারসাম্য ছিল, তা বর্তমানে ভেঙে পড়ছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী খরার মতো চরম আবহাওয়ার তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























