ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির জেরে টালমাটাল ব্রিটিশ রাজনীতি, স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টার পদত্যাগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট গোপন নথি ফাঁসের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই পরিস্থিতির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা মরগান ম্যাকসুইনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত কয়েক লাখ নতুন নথি জনসমক্ষে আনে। এসব নথিতে লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই ব্রিটিশ রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বিতর্কের জেরে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন।

লর্ড ম্যান্ডেলসনকে গুরুত্বপূর্ণ ওই কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন মরগান ম্যাকসুইনি। গত রোববার এক বিবৃতিতে ম্যাকসুইনি জানান, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শটি ছিল তার জীবনের একটি বড় ভুল। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকার ও রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে—এমনটি মনে করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী ম্যাকসুইনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, এই বিতর্কিত নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইতিমধ্যে জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল নথিগুলো একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা: বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে তিন নদীর পানি

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির জেরে টালমাটাল ব্রিটিশ রাজনীতি, স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টার পদত্যাগ

আপডেট সময় : ১১:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট গোপন নথি ফাঁসের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই পরিস্থিতির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা মরগান ম্যাকসুইনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত কয়েক লাখ নতুন নথি জনসমক্ষে আনে। এসব নথিতে লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই ব্রিটিশ রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বিতর্কের জেরে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন।

লর্ড ম্যান্ডেলসনকে গুরুত্বপূর্ণ ওই কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন মরগান ম্যাকসুইনি। গত রোববার এক বিবৃতিতে ম্যাকসুইনি জানান, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শটি ছিল তার জীবনের একটি বড় ভুল। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকার ও রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে—এমনটি মনে করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী ম্যাকসুইনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, এই বিতর্কিত নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইতিমধ্যে জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল নথিগুলো একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।