ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

লেবাননে ভবন ধসে নিহত ৯, ত্রিপোলিকে ‘দুর্যোগ-কবলিত’ শহর ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

উত্তর লেবাননের বন্দরনগরী ত্রিপোলিতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শহরের মেয়র ত্রিপোলিকে ‘দুর্যোগ-কবলিত শহর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনধসের পর থেকে এখন পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। উদ্ধার তৎপরতায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, রেড ক্রস এবং অন্যান্য জরুরি ও ত্রাণ সংস্থাগুলো অংশ নেয়। আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় ধ্বংসাবশেষ সরাতে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তা করেছেন।

ধসে পড়া ভবনটি দুটি ব্লকে বিভক্ত ছিল, যেখানে প্রতিটি ব্লকে ছয়টি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ভবনটি ধসে পড়ার সময় প্রায় ২২ জন ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা মহাপরিচালক ইমাদ খ্রেইশ জানান, উদ্ধারকাজ জোরেশোরে চলছে। ত্রিপোলির মেয়র আবদেল হামিদ করিমেহ সাংবাদিকদের বলেন, “অনিরাপদ ভবনের কারণে আমরা ত্রিপোলিকে একটি দুর্যোগ-কবলিত শহর হিসেবে ঘোষণা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর ধরে অবহেলার কারণে শহরের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন এবং এই পরিস্থিতি ত্রিপোলি পৌরসভার সামর্থ্যের বাইরে।

দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও ত্রিপোলি পৌর পুলিশ ধসে পড়া ভবনের আশপাশের অন্যান্য আবাসিক ভবনগুলো খালি করে দিয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট সব জরুরি সেবাকে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা এবং পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যেসব ভবন খালি করতে হবে, সেসব ভবনের সব বাসিন্দার জন্য আবাসন ভাতা প্রদানে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, লেবাননে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনের সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের সময় কোনো অনুমতি ছাড়াই বহু ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এই ঘটনা আবারও দেশটির পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর বিপদ সামনে নিয়ে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা: বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে তিন নদীর পানি

লেবাননে ভবন ধসে নিহত ৯, ত্রিপোলিকে ‘দুর্যোগ-কবলিত’ শহর ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উত্তর লেবাননের বন্দরনগরী ত্রিপোলিতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শহরের মেয়র ত্রিপোলিকে ‘দুর্যোগ-কবলিত শহর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনধসের পর থেকে এখন পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। উদ্ধার তৎপরতায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, রেড ক্রস এবং অন্যান্য জরুরি ও ত্রাণ সংস্থাগুলো অংশ নেয়। আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় ধ্বংসাবশেষ সরাতে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তা করেছেন।

ধসে পড়া ভবনটি দুটি ব্লকে বিভক্ত ছিল, যেখানে প্রতিটি ব্লকে ছয়টি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ভবনটি ধসে পড়ার সময় প্রায় ২২ জন ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা মহাপরিচালক ইমাদ খ্রেইশ জানান, উদ্ধারকাজ জোরেশোরে চলছে। ত্রিপোলির মেয়র আবদেল হামিদ করিমেহ সাংবাদিকদের বলেন, “অনিরাপদ ভবনের কারণে আমরা ত্রিপোলিকে একটি দুর্যোগ-কবলিত শহর হিসেবে ঘোষণা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর ধরে অবহেলার কারণে শহরের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন এবং এই পরিস্থিতি ত্রিপোলি পৌরসভার সামর্থ্যের বাইরে।

দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও ত্রিপোলি পৌর পুলিশ ধসে পড়া ভবনের আশপাশের অন্যান্য আবাসিক ভবনগুলো খালি করে দিয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট সব জরুরি সেবাকে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা এবং পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যেসব ভবন খালি করতে হবে, সেসব ভবনের সব বাসিন্দার জন্য আবাসন ভাতা প্রদানে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, লেবাননে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনের সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের সময় কোনো অনুমতি ছাড়াই বহু ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এই ঘটনা আবারও দেশটির পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর বিপদ সামনে নিয়ে এসেছে।