ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

জাপানে তাকাইচির এলডিপির ভূমিধস জয়: পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে, যা তাদের সরকার গঠনে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

প্রাথমিক ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি ইতোমধ্যে ৩৫২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের তুলনায় এটি অনেক বেশি, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।

নির্বাচনে জয়ের আভাস মেলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দল দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক তহবিল জালিয়াতি ও কিছু ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কেলেঙ্কারির কারণে চাপের মুখে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাস পরই তাকাইচি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল দলের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যেই তাকাইচি সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেট চাইতে এই নির্বাচন আয়োজন করেন। এই ফলাফল তার পূর্বসূরিদের সময়ের চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত, যখন দুর্নীতির অভিযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব এই দীর্ঘ শাসনের অন্যতম কারণ।

আগাম নির্বাচন ঘোষণার সময় অনেকে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছিলেন। কারণ তখন এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল এবং দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী কুমেইতো দলের সঙ্গে সম্পর্কেও ফাটল ধরেছিল। তবে নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সানায়ে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই দলকে এই বিশাল সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সরকারের অনুমোদনের হার অধিকাংশ সময়েই ৭০ শতাংশের ওপরে ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা: বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে তিন নদীর পানি

জাপানে তাকাইচির এলডিপির ভূমিধস জয়: পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে, যা তাদের সরকার গঠনে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

প্রাথমিক ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি ইতোমধ্যে ৩৫২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের তুলনায় এটি অনেক বেশি, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।

নির্বাচনে জয়ের আভাস মেলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দল দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক তহবিল জালিয়াতি ও কিছু ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কেলেঙ্কারির কারণে চাপের মুখে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাস পরই তাকাইচি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল দলের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যেই তাকাইচি সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেট চাইতে এই নির্বাচন আয়োজন করেন। এই ফলাফল তার পূর্বসূরিদের সময়ের চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত, যখন দুর্নীতির অভিযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব এই দীর্ঘ শাসনের অন্যতম কারণ।

আগাম নির্বাচন ঘোষণার সময় অনেকে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছিলেন। কারণ তখন এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল এবং দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী কুমেইতো দলের সঙ্গে সম্পর্কেও ফাটল ধরেছিল। তবে নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সানায়ে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই দলকে এই বিশাল সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সরকারের অনুমোদনের হার অধিকাংশ সময়েই ৭০ শতাংশের ওপরে ছিল।