আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষে নিজের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের সন্তান তপু রায়হান। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ‘স্থানীয় ঐকমত্যের ইশতেহার’ শিরোনামে এই নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তপু রায়হান জানান, গত বছরের ৯ নভেম্বর এই আসনের জনগণের কাছে তিনি একটি কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক ইশতেহার প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় গুলশান, বনানী, মহাখালী, শাহজাদপুর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ছাড়াও কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতেই নাগরিক সমস্যাগুলোর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া হয়েছে এই ইশতেহারে।
ঘোষিত ইশতেহারে ঢাকা-১৭ আসনের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নাগরিক সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকা নিশ্চিত করা; কিশোর গ্যাং কালচার, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ; যানজট নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এছাড়া সড়ক সংস্কার, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, যুবসমাজের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিক নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পরিবেশ সুরক্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়রানি প্রতিরোধ ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপু রায়হানের মা ও প্রখ্যাত অভিনেত্রী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। এছাড়া জহির রায়হানের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, তপু রায়হানের নির্বাচনি প্রচারণা টিমের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটার ও শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-১৭ আসন একটি আধুনিক ও আদর্শ জনপদে পরিণত হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























