একদা এক তরুণী, রুহিতা, যার চোখে ছিল নায়িকা হওয়ার অদম্য স্বপ্ন। তার বাবা-মা মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন, চেয়েছিলেন মেয়ে লেখাপড়া করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু রুহিতার মন পড়ে থাকত রুপালি পর্দার হাতছানিতে। কলেজের পথে চলতে চলতে সে প্রায়ই শুনতে পেত তার সৌন্দর্যের প্রশংসা, অনেকে তাকে তুলনা করত ববিতার মতো। এসব শুনে সে মনে মনে ভাবত, একদিন সেও হবে এই জগতেরই একজন, কাঁপিয়ে দেবে দর্শকদের হৃদয়।
সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই তার জীবনে আসে কায়ছার বাবু। রুপালি জগতের পরিচিত এই ব্যক্তি রুহিতার নায়িকা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানতে পেরে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। রুহিতার সাথে দেখা করে সে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং তাকে নায়িকা বানানোর লোভ দেখায়। কায়ছার বাবুর কথায় মুগ্ধ হয়ে রুহিতা বিশ্বাস করে, তার স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। কায়ছার বাবু তাকে সালমান শাহের মতো তারকা বানানোরও প্রতিশ্রুতি দেয়। রুহিতার রূপ এবং তার নায়িকাসুলভ সম্ভাবনার কথা বলে কায়ছার বাবু তাকে প্রেমের জালে জড়িয়ে ফেলে।
কিছুদিন পর, রুহিতা সবকিছু ছেড়ে কায়ছার বাবুর হাত ধরে ঢাকায় পাড়ি জমায়। সেখানে নামমাত্র এক বিয়ের পর তাদের সংসার শুরু হয়। রুহিতা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে অভিনয়ের সুযোগের জন্য। কায়ছার বাবু তাকে আশ্বাস দেয় যে, শীঘ্রই সে তাকে নায়িকা বানাবে। একদিন কায়ছার বাবু রুহিতাকে জানায় যে, সে একটি দারুণ গল্পের সন্ধান পেয়েছে এবং রুহিতাই হবে সেই ছবির নায়িকা। রুহিতার স্বপ্ন যেন সত্যি হতে চলেছে।
কিন্তু সেই আনন্দ ক্ষণস্থায়ী ছিল। ছবিটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবের কথা বলে কায়ছার বাবু রুহিতার সোনার গয়না চেয়ে নেয়। সে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, ছবির ব্যবসা সফল হলে সে রুহিতাকে আরও অনেক গয়না কিনে দেবে। কিন্তু গয়না নিয়ে কায়ছার বাবু আর ফিরে আসেনি। রুহিতা বুঝতে পারে, সে প্রতারিত হয়েছে।
একসময় রুহিতা অচেনা বস্তিতে ঠাঁই নেয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে গ্রাস করে। সে রুপালি জগতের আলো-আঁধারের জগতে প্রবেশ করে। সেখানে সে ভালো কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পায় না। অনেক চেষ্টা করেও সে পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। এক পরিচিতের মাধ্যমে সে এক পরিচালকের সাথে দেখা করে, কিন্তু সেখানেও সে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব পায়।
রুহিতার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে, রুপালি জগতে টিকে থাকতে হলে শুধু মেধা বা রূপই যথেষ্ট নয়, অনেক সময় অনৈতিক আপসও করতে হয়। ফেলে আসা দিন, গ্রাম, পরিবার এবং তার সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে রুহিতা নীরবে চোখের জল ফেলে। তার মনে প্রশ্ন জাগে, নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে সে কি তার জীবনের সবকিছুই হারিয়ে ফেলল?
রিপোর্টারের নাম 





















