বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় ও সাহায্যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে ফরিদপুরকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি একটি সিটি কর্পোরেশনও প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুক্রবার রাতে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে নদীগুলো দখল ও ভরাট করে একটি মহল বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে দখলমুক্ত করে নদীগুলোকে তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও জনগণ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া, ফরিদপুরে পাট উৎপাদন হলেও পাটকলগুলো বন্ধ রয়েছে।
যুবকদের বেকার ভাতা প্রদানের পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। বেকার ভাতা নয়, বরং যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চান তিনি। তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব অঞ্চলে কৃষিপণ্য বেশি উৎপাদিত হয়, সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন।
জামায়াত কোনো দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় হবে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে দেশের সকল মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। তিনি এ সময় ‘গুপ্ত’ তকমা প্রসঙ্গে বলেন, যারা এই তকমা দেয়, তাদের তিনি ক্ষমা করে দিলেন।
ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা মো. বদরউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াছ আলি মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), ফরিদপুর-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা শাহ আকরাম আলি (রিক্সা), ফরিদপুর-৩ আসনের অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব (দাঁড়িপাল্লা), ফরিদপুর-৪ আসনের মাওলানা মো. সরোয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), রাজবাড়ী-১ আসনের এডভোকেট নুরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), রাজবাড়ী-২ আসনের জামিল হিজাযী (শাপলা-কলি) এবং মাদারীপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
রিপোর্টারের নাম 

























